Search

Search

ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১১

ছবি: স্টার নিউজ
ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বরের পাইলট মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিএনপির এক নারী কর্মী ও ভোজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য ফরিদা বেগম ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালান। এ ঘটনাকে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামের এক কর্মী ‘সবুজ লাইব্রেরি’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ওই নারীকে নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। দুপুরে বিষয়টি নিয়ে ভোজেশ্বরের পাইলট মোড় এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয়পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন- নড়িয়া উপজেলা যুবদল সভাপতি নিক্সন খান, নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রাসেল হাওলাদার, ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজান সিকদার, জপসা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সবুজ মাদবর, ভোজেশ্বর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন জনি, জপসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব মাদবর, নড়িয়া উপজেলা জামায়াতের পশ্চিম শাখার আমির কাহেদ নজরুল, শিবির নেতা শাহ আলমসহ আরও কয়েকজন। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শরীয়তপুর–২ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাহমুদ হোসেন বকাউল অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে আমাদের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন। মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের পাঁচজনকে আহত করেছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করব।’

অন্যদিকে নড়িয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি নিক্সন খান বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় জামায়াতে ইসলামী সন্ত্রাসীদের হামলায় আমাদের ছয়জন আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকী দাস বলেন, ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো এক নারী কর্মীকে নিয়ে দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকেই ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, ‘জামায়াত ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

উল্লেখ্য, শরীয়তপুর–২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সফিকুর রহমান কিরণ এবং জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মাহমুদ হোসেন বকাউল।

সম্পর্কিত খবর :