নওফেলসহ ৩৩০ ‘দুষ্কৃতকারীকে’ চট্টগ্রাম নগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষণা
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, আওয়ামী লীগের সাবেক পাঁচ এমপিসহ ৩৩০ জনকে ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের চট্টগ্রাম নগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ব্যক্তিদের চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ ও অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগই চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, অস্ত্র, মাদকসহ নানা মামলার আসামি। তালিকায় রাষ্ট্রদোহীতার মামলায় কারাগারে আটক সনাতন জাগরণী জোটের নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নামও রয়েছে।
পুলিশের প্রকাশ করা এ তালিকায় ৪ নম্বরে আছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক শওকত আজম খাজার নাম।
৩৩০ জনের এই তালিকার ১৮০ নম্বরে আছে সাবেক সিটি মেয়র আ জ নাছির উদ্দিন, ১৮৭ নম্বরে সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম, ১৮৮ নম্বরে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ২৩৯ নম্বরে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, ২৪০ নম্বরে ফজলে করিমের ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরীর নাম রয়েছে।
এছাড়াও সাবেক সংসদ সদস্য ও সিডিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ, মহিউদ্দিন বাচ্চু, নোমান আল মাহমুদের নাম আছে তালিকায়।
তালিকায় চট্টগ্রামের কুখ্যাত ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বেশিরভাগেরই নাম আছে। এরমধ্যে বিদেশে পালিয়ে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ, তার সহযোগী ছোট সাজ্জাদ, রায়হান, বোরহান, শহীদুল ইসলাম বুইশ্যার নামও আছে। যাদের অনেকেই বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। ছোট সাজ্জাদের স্ত্রী শারমিন আকতার তামান্নার নামও আছে তালিকায়।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক ৩৯ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নামও তালিকার ২০০ থেকে ২৩৮ নাম্বার পর্যন্ত সিরিয়ালে। বিভিন্ন কাউন্সিলরদের নামের সঙ্গে ২২৭ নম্বরে আছে ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আতাউল্লাহ চৌধুরীর নামও। যিনি গত নভেম্বরে মৃত্যুবরণ করেন।
নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, সাইফুল আলম লিমনসহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অঙ্গসংগঠনের অনেকের নাম আছে।
তালিকায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নামের বিষয়ে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, ‘সিআরপিসি অনুযায়ী আমি কোন দল চিনি না। সন্ত্রাসী চিনি। যাদের নাম এসেছে তারা পুলিশের চোখে লিস্টেড ক্রিমিনাল।’
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তালিকাভুক্তদের চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ বা অবস্থান নিষিদ্ধ বলেও উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।