মা হারানো মেছো বিড়ালকে খুলনা বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা থেকে উদ্ধার হওয়া মা হারা একটি মেছো বিড়াল খুলনা বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গত বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার নলডাঙ্গা বাজার থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা মেছো বিড়ালটিকে আটক করেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বিড়ালটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।
জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার নলডাঙা বাজারে মা হারা একটি মেছো বিড়াল দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়। এরপর ইউএনও কার্যালয় থেকে খুলনা বিভাগীয় বন বিভাগে যোগাযোগ করা হয়। খবর পেয়ে খুলনা বিভাগীয় বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার ওমর ফারুক, প্রশিক্ষক আদনান মিম বৃহস্পতিবার বিকেলে কালীগঞ্জে পৌঁছান। এ সময় তারা মেছো বিড়ালটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন।
খুলনা বন বিভাগের বিভাগীয় বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা (রেঞ্জার) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘মেছো বিড়ালটির বয়স সাত দিন। বিড়ালটির মা কোথায়, তা জানা সম্ভব হয়নি। এই মেছো বিড়ালটি খুলনা বিভাগীয় বন্য প্রাণি ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তত্বাবধানে থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাণীটির প্রকৃত নাম মেছো বিড়াল। অনেক এলাকায় এটি মেছোবাঘ নামেও পরিচিত। প্রাণীটি মানুষকে আক্রমণ করে না। বরং মানুষ দেখলে পালিয়ে যায়। তাই, এটি নিয়ে ভীত হওয়ার কিছু নেই। জলাভূমি আছে এমন এলাকায় এই বিড়াল বেশি দেখা যায়। প্রাণীটি জলাভূমির মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া ছাড়াও পোকামাকড় খেয়ে জীবনধারণ করে। এছাড়া মেছো বিড়াল ফসলি জমির ইঁদুর শিকারে খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখে। এই প্রাণীটি হত্যা, মারধর বা কোনো ধরণের ক্ষতিসাধন শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, ‘মেছো বিড়ালটি সুস্থ আছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী মেছো বিড়ালটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করতে পেরেছি। মেছো বিড়ালসহ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসন নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’