শরীয়তপুরের জাজিরায় ভয়াবহ ককটেল বিস্ফোরণ
৪০টি হাতবোমা নিষ্ক্রিয়, গ্রেপ্তার ২
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ভয়াবহ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ হাতবোমা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিরাপদে ধ্বংস করেছে পুলিশের বোম ডিসপোজাল ইউনিট। এ ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি এলাকার একটি ফাঁকা জমিতে উদ্ধারকৃত বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়। এর আগে শুক্রবার সকালে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বসতঘর থেকে এসব বিস্ফোরক উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার ভোররাতে মুলাই ব্যাপারীকান্দি এলাকার সাগর বেপারীর বাড়িতে ককটেল তৈরির সময় হঠাৎ শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পুরো বসতঘরটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই সোহান বেপারী নিহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবীন সরদার নামের আরও একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় আরও একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর শুক্রবার সকালে পুলিশ ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট যৌথভাবে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ হাতবোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক দিয়ে শতাধিক ককটেল তৈরি করা সম্ভব বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ঢাকা অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ বলেন,'সকাল থেকেই আমাদের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে বোমা উদ্ধারের কাজ করে। পরবর্তীতে ৪০টি হাতবোমা ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে নিরাপদে ধ্বংস করা হয়েছে।'
জাজিরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুস ছালাম বলেন, 'বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।'