ফরিদপুর-৪ আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ
ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা–সদরপুর–চরভদ্রাসন) জাতীয় সংসদীয় আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তাকে এই শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশটি প্রদান করেন মোহাম্মদ রুহুল আমিন, সিভিল জজ, ফরিদপুর এবং জাতীয় সংসদীয় আসন-২১৪-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কর্মকর্তা।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রণীত নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা, ১৯৯২ এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ (সংশোধিত)-এর একাধিক ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে বলা হয়, 'নির্বাচনী প্রচারণাকালে মাওলানা সরোয়ার হোসেন অনুমোদনহীনভাবে এবং নির্ধারিত বিধিমালা লঙ্ঘন করে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন—এমন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা তদন্তে পাওয়া গেছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এ শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে'।
নোটিশে আরও বলা হয়, 'নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীকে লিখিতভাবে অভিযোগের ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে নির্বাচন আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে'।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আমার জানা মতে আমি কখনও কোনো নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করিনি। মসজিদে নামাজের পর কোরআন-হাদিসের আলোকে কথা বলা আমি নিয়মিতভাবেই করে থাকি। সেখানে কোনো ভোটের আহ্বান বা লিফলেট বিতরণ করা হয়নি। কী কারণে আমাকে শোকজ করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আগামী ১৩ তারিখ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে ডাকা হয়েছে। বিষয়টি আমরা আইনগতভাবেই মোকাবিলা করব।'
উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর আগেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একাধিক প্রার্থী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।