ঘুষের টাকাসহ আটক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কারাগারে
ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে আটক যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে উদ্ধার করা এক লাখ ২০ হাজার টাকা ট্রেজারিতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এমএম মোর্শেদ এ আদেশ দেন। বিষয়টি স্টার নিউজকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি সিরাজুল ইসলাম।
এর আগে বুধবার বিকেলে নিজ কার্যালয় থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকাসহ আশরাফুল আলমকে আটক করে দুদক।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, ‘ট্র্যাপ অভিযানের’ ফাঁদ পেতে বুধবার বিকেলে দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অভিযান চালায়। দুদক যশোরের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই ফাঁদ পাতা হয়।
সূত্র জানায়, গত তিন মাস ধরে অভিযোগকারী বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবী তার প্রয়াত স্ত্রী শিরিনা আক্তারের পেনশন সংক্রান্ত ফাইল ছাড় করানোর জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমের কাছে ধর্না দিচ্ছিলেন। কিন্তু ওই কর্মকর্তা নানা অজুহাতে তাকে ঘুরাতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রথম দফায় ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার পর আবারও টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে পেনশনের অর্থ ছাড় করা হবে না বলে হুমকি দেন। এমনকি খুলনা বিভাগীয় এক কর্মকর্তার যোগসাজশে তার স্ত্রীর বেতন কাঠামো (বেসিক) কমিয়ে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এক পর্যায়ে নুরুন্নবী দুদক কার্যালয়ের দ্বারস্থ হন। দুদক তার অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে ‘ট্র্যাপ অভিযানের’ প্রস্তুতি নেয়। দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অনুমোদনের পর বুধবার অভিযানের প্রস্তুতি নেয়। অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার বিকেলে ফাইল ছাড় করানোর কথা বলে আশরাফুল আলমের হাতে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় দুদক সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করে।
এদিকে, তার আটকের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন প্রাথমিক শিক্ষকেরা। তারা দাবি করেন, দুদকের অভিযানের কিছু সময় আগে আশরাফুল আলম বাথরুমে গেলে সেই সুযোগে একটি পক্ষ তার টেবিলে টাকা রেখে যায়। পরবর্তীতে ‘হাতেনাতে আটক’ দেখিয়ে একটি নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। একই প্রতিবাদে বুধবার রাতেও এসব শিক্ষকরা দুদকের কার্যালয়ে অবস্থান নেন।