‘গরুচোর’ সন্দেহে গণপিটুনিতে সাইপ্রাস ফেরত ব্যক্তি নিহত
মাগুরা সদর উপজেলার ইছাখাদা বাজারে গরুচোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. আকিদুল (৪০)। তিনি মাগুরা সদর উপজেলার পাকা কাঞ্চনপুর গ্রামের শহর আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরে ইছাখাদা বাজার এলাকায় গরু চুরির সন্দেহে স্থানীয়রা আকিদুলকে ধরে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সকাল ৯টার দিকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী অজিফা খাতুন বলেন, ‘আকিদুল দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। প্রায় পাঁচ মাস আগে সাইপ্রাস থেকে দেশে ফেরেন। এরপর তিনি ঢাকায় একটি সবজির আড়তে কাজ করতেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন আকিদুল। ভোর ৪টার দিকে তিনি ইছাখাদা বাজারে নেমে ছেলেকে ফোন করে সেখানে আসতে বলেন।
অজিফা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘মনিরুল নামের এক ব্যক্তি আমার স্বামীর মোবাইল ফোন থেকে কল করে জানায় তোমার স্বামী গরু চুরি করেছে। দুই লাখ টাকা দিলে ছেড়ে দেব। টাকা দিতে না পারায় ইছাখাদা পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি কাঁঠালগাছের সঙ্গে বেঁধে মনিরুল, লিয়াকতসহ কয়েকজন মিলে আমার স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা করে।’
তিনি আরও দাবি করেন, তার স্বামী গরু চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। পূর্বের শত্রুতা, মারামারি ও চাঁদা আদায়ের বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, আকিদুলকে মারধরের খবর পেয়ে তারা স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সকাল সাড়ে আটটার দিকে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সুমাইয়া আফরিন বলেন, ‘সকাল ৯টার কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথার চুল কেটে নেওয়া হয়েছে এবং পা ভাঙা থাকতে পারে। পা থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।’
এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান বলেন, ‘আঠারোখাদা ইউনিয়নের মালন্দ গ্রাম থেকে একটি গরু চুরি করে আনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া দিয়ে ধরে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।’
তিনি আরও জানান, একটি গরু পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।