তীব্র শীতে বিপর্যস্ত মাগুরার জনজীবন
ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মাগুরা জেলার জনজীবন। প্রয়োজন ছাড়া লোকজন খুব একটা বাড়ির বাইরে বের হতে পারছেন না। গত কয়েক দিন ধরে জেলার চার উপজেলায় শীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশা বয়ে যাওয়ায় শীতের প্রকোপ অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
শীতের তীব্রতায় ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
তারা জানান, ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি।
এদিকে শীত বেড়ে যাওয়ায় গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে গ্রামীণ এলাকায় অধিকাংশ খেটে খাওয়া মানুষের ঘরে পর্যাপ্ত গরম কাপড় নেই। শীত নিবারণের জন্য অনেকেই খড়কুটো ও জ্বালানি পুড়িয়ে রাত কাটাচ্ছেন। গ্রাম্য বাজারগুলোতেও লোকজনের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
গত দু’দিন ধরে হঠাৎ করেই শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যাওয়ায় দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ একপ্রকার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে যেসব শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং অনেক ক্ষেত্রেই নিম্নমানের। ফলে সাধারণ মানুষ চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
কৃষকরা জানান, বর্তমানে বোরো মৌসুম চলমান। কিন্তু প্রচণ্ড শীতের কারণে বীজতলা তৈরি ও জমি চাষাবাদে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
অন্যদিকে ঘন কুয়াশার কারণে সড়কেও বাড়ছে ঝুঁকি। মাগুরা বাস টার্মিনালের চালকরা জানান, কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালাতে হচ্ছে।
এদিকে চলমান শৈত্যপ্রবাহে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম তেমন চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণ ও চিকিৎসাসেবার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।