নিবিড় পর্যবেক্ষণে সুন্দরবনে উদ্ধার বাঘিনী, আরও ফাঁদ উদ্ধার
সুন্দরবনের শরকির খালের অদূরে বাঘ আটকে পড়া এলাকা থেকে আরও ছিটকা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দিনব্যাপি ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে অন্তত ৮টি ফাঁদ উদ্ধার করা হয়। বাঘ রক্ষায় অধিকতর সতর্ক থাকার অংশ হিসেবে বন বিভাগ এই কার্যক্রম চালিয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক(এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস বলেন, 'বনের বৈদ্যমারি এলাকায় হরিণের ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে আমরা খুবই সতর্কতার সাথে উদ্ধার করেছি। অসাধু মানুষেরা ওই এলাকায় আরও ফাঁদ পেতে রাখতে পারে, সে ধারণা থেকেই আজকে দিনব্যাপি ওই এলাকায় তল্লাশি করা হয়েছে। এছাড়া পুরো এলাকা নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এদিকে সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়া বাঘিনীকে উদ্ধারের পর খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রাণীটির চিকিৎসা চলছে। পাশাপাশি স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে বাঘিনীকে। এছাড়া বাঘটি খাওয়া-দাওয়ার চেষ্টা করছে।
উদ্ধার হওয়া নারী বাঘটি প্রাপ্ত বয়স্ক। দীর্ঘ সময় ফাঁদে আটকে থাকায় তার সামনের একটি পায়ে বেশ জখম হয়েছে। যার ফলে ৪৮ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত প্রাণিটিকে আশঙ্কা মুক্ত বলা যাবেনা বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির আওতাধীন শরকির খাল সংলগ্ন বনাঞ্চলে বাঘটি ফাঁদে আটকা পড়েছিল। শনিবার দুপুরে বিষয়টি জানার পর বন বিভাগ বাঘটিকে উদ্ধারের কাযক্রম শুরু করে। তবে খুলনা বিভাগের বন বিভাগের ভেটেনারি সার্জন না থাকায়, উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করতে দেরি হয়।
গতকাল রোববার দুপুরে উদ্ধারের জন্য ‘ট্রানকুইলাইজার গান’ দিয়ে ইনজেকশন পুশ করে বাঘটিকে অচেতন করা হয়। এরপর ফাঁদ কেটে উদ্ধারের পর লোহার খাঁচায় করে বাঘটিকে নেওয়া হয়।
বন কর্মকর্তাদের ধারণা, বাঘটি শুক্রবার রাত কিংবা শনিবার সকালের দিকে হরিণ শিকারের জন্য পাতা ছিটকা ফাঁদে আটকে পড়ে। বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, ছিটকা ফাঁদে যত বেশি নড়াচড়া করা হয়, ফাঁদ তত কষে যায়। বাঘটি মুক্ত হতে গিয়ে নড়াচড়া করলে ফাঁদ আরও শক্ত হয়ে যায় এবং পায়ে গুরুতর আঘাত পায়।