ফরিদপুরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ৪ ঘণ্টা সংঘর্ষ, নারী-পুরুষসহ আহত অন্তত ২৫
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের সরইবাড়ি গ্রামে এ সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় প্রায় চার ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তুজারপুর ইউনিয়নের সরইবাড়ি গ্রামে হাবিবুর রহমান তালুকদার গ্রুপ ও কবির খান গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, ঢাল ও সড়কি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তিনি আরও জানান, সংঘর্ষে আহতদের সঠিক সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে সকাল ১০টার পর থেকে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এ ঘটনায় কবির খান পক্ষের নেতৃত্বদানকারী কবির মাতুব্বর দাবি করেন, গত পরশুদিন প্রতিপক্ষের লোকজন তার সমর্থকদের মারধর এবং বসতঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়াতেই মঙ্গলবার সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষের নেতা হাবিবুর রহমান তালুকদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার পক্ষের শওকত হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরেই মাঝে মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে'। মঙ্গলবারের ঘটনায় তাদের পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।