সুন্দরবনে হরিণের ফাঁদে আটকা বাঘটি উদ্ধার হলো যেভাবে
সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। ‘ট্রানকুইলাইজার গান’ দিয়ে ইনজেকশন পুশ করে প্রথমে বাঘটিকেঅচেতন করা হয়। পরে ফাঁদ থেকে উদ্ধার করেনবন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে উদ্ধারের পর খাঁচায় করে বাঘটিকে সুন্দরবন থেকে নিয়ে আসা হয়। বাঘটি বেশ দুর্বল হয়ে পড়ায় তাকে স্লাইন দেওয়া হচ্ছে।
বন বিভাগের কর্মীরা সাধারণ মানুষের ভিড়ের কারণে দ্রুত বাঘটিকে নিয়ে খুলনার দিকে রওনা হয়েছেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্চের করমজল ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ‘বাঘটিকে খুলনায় বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেস্কিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে চিকিৎসা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এর আগে শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরের পর বন বিভাগের কাছে খবর আসে স্থানীয় শরকির খাল দিয়ে আধা কিলোমিটার ভেরতে হরিণ শিকারের ফাঁদে একটি বাঘ আটকে আছে। জায়গাটি সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারি ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির অন্তরগত বনাঞ্চল।
সুন্দরবনের ওই এলাকাটি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বৈদ্ধমারী ও জয়মনি বাজারের মাঝামাঝি। বন বিভাগের কর্মীরা সেখানে গিয়ে বাঘটি আটকে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হলে উদ্ধারের জন্য ঢাকা থেকে ভেটেনারি সার্জনসহ বিশেষজ্ঞ দল আসে। এছাড়া উদ্ধার কাজে আসেন খুলনা থেকে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা।
বাঘটি দেখতে শনিবার সন্ধ্যা থেকে ওই এলাকায় স্থানীয় মানুষ ভিড় করতে শুরু করে। তবে বন বিভাগ কাউকে বনে প্রবেশ করতে দেয়নি। সকালে উদ্ধার কাজ শুরু হবে এই খবরে দূর দূরান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সী মানুষ সেখানে আসতে শুরু করে। বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অনেকে বনের ভেতরে প্রবেশ করে। উদ্ধার অভিযান শুরুর আগেই কেউ কেউ সেখানে গিয়ে ছবি তুলে এবং ভিডিও করেছে নিয়ে আসেন। দুপুরের আগেই শরকির খাল পাড়ে কয়েক হাজার মানুষ ভিড় করেন বাঘ দেখার জন্য।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা কার্যালয়ের মৎস্য বিশেষজ্ঞ ও স্মার্ট ডাটা কো-অর্ডিনেটর মো. মফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে বাঘটিকে ট্রানকুইলাইজার দিয়ে অচেতন করা হয়। উদ্ধারের পর বাঘটিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’