সুন্দরবনে ঘুরতে গিয়ে অপহরণের শিকার ৩
সুন্দরবনে ঘুরতে গিয়ে দস্যু বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন রিসোর্ট মালিকসহ তিন পর্যটক। বনের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী এলাকা সংলগ্ন কেনুর খাল এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। দস্যুরা মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে জানা গেছে। পর্যটকরা রিসোর্ট 'গোল কানন' এ ঘুরতে এসেছিলেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা।
শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে অপহরণের ঘটনা ঘটলেও রির্সোট মালিক এ নিয়ে লুকোচুরি করছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। অপহৃত দুই পর্যটক রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা। দাকোপ থানা পুলিশের তথ্য মতে, অপহৃত দুই পর্যটক মো. সোহেল ও জনি। তবে বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
রির্সোট সংগঠনের নেতারা রির্সোট মালিকসহ দুই পর্যটককে ছাড়িয়ে আনতে দস্যুদের সঙ্গে দেনদরবার করছে বলেও জানা যায়।
সূত্র জানায়, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) নারী-পুরুষসহ চার পর্যটক ঢাকা থেকে সুন্দরবনে ঘুরতে আসেন। এদিন দুপুরে তারা সুন্দরবনের ঢাংমারী এলাকায় অবস্থিত 'রিসোর্ট গোল কানন' এ বুকিং নিয়ে রাত্রি যাপনের জন্য ওঠেন। পরে বিকেলে রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড়সহ চার পর্যটক নৌকায় চড়ে বনের ছোট খালে ঘুরতে বের হন।
রিসোর্ট সংলগ্ন ওই খাল থেকে নারীসহ ৫ জনকে তুলে নেয় সশস্ত্র দস্যুরা। রাতে দুই নারী পর্যটককে রিসোর্টে ফিরিয়ে দেয় তারা। তবে রিসোর্ট মালিক ও দুই পুরুষ পর্যটককে জিম্মি করে রাখে। জিম্মি থাকা পর্যটকদের কাছে দস্যুরা মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে জানা যায়। তবে মুক্তিপণ হিসেবে কত টাকা দাবি করেছে তারা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রিসোর্ট মালিকের ছোট ভাই উত্তম বাছাড়।
বনবিভাগের ঢাংমারী স্টোশন কর্মকর্তা সুরজিৎ চৌধুরী জানান,তিনি অপহরণের ঘটনা শুনেছেন। তবে কোন দস্যু বাহিনী পর্যটকদের অপহরণ করেছে তা জানাতে পারেননি।
বনে পর্যটক অপহরণের ঘটনায়, শনিবার (৩ জানুয়ারি)দিনব্যাপী রিসোর্ট এলাকায় কোনো ট্যুর নৌযান কিংবা পর্যটক যাতায়াত করেনি। ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
খুলনা জেলার দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, ঢাকা থেকে সুন্দরবনে রিসোর্টে ঘুরতে গিয়ে দুই পর্যটক ও রিসোর্ট মালিক অপহৃত হয়েছেন। তাদের উদ্ধারে থানা ও নৌপুলিশ এবং কোস্টগার্ড যৌথ অভিযান চালাছে। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।