নাটকীয়তা শেষে আজ শুরু হচ্ছে বিপিএল
নানা নাটকীয়তা শেষে অবশেষে রাত ৯টার (বৃহস্পতিবার) আগেই কোয়াবের এক প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়—বিসিবির পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম যদি প্রকাশ্যে ক্ষমা চান, তাহলে ক্রিকেটাররা শুক্রবার থেকেই মাঠে ফিরতে প্রস্তুত।
এই ঘোষণার পরই বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে ক্রিকেট বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল রাত ১০টার পর ক্রিকেটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। ওই বৈঠকে ক্রিকেটারদের পক্ষে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনসহ সব সিনিয়র ক্রিকেটার উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বোর্ডের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল, নাজমুন আবেদীন ফাহিম, ইফতেখার আহমেদ, ইফতেখার রহমান মিঠু, শানিয়ান তানিমসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা।
বৈঠক শেষে বিসিবি মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিশ্চিত করে বলেন, আগামীকাল (শুক্রবার) থেকেই ক্রিকেটাররা মাঠে ফিরছেন। শুক্রবার থেকে আবার শুরু হচ্ছে বিপিএল। ১৫ জানুয়ারি যে ম্যাচগুলো হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ সূচিতে একদিনের পরিবর্তন আসছে।
এর মধ্য দিয়ে তামিম ইকবালকে নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করে বিসিবির পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম যে ক্রিকেটারদের বিরাগভাজন হয়েছিলেন এবং তার পদত্যাগের দাবিতে গত ৭২ ঘণ্টা ধরে ক্রিকেটাররা যে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন, সেই আন্দোলনের আপাতত ইতি ঘটল। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ বোর্ড কর্তাদের সঙ্গে কোয়াব নেতৃবৃন্দের সরাসরি বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমেই এই সমাধান এসেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি সুসংবাদ। অনিশ্চয়তার মুখে পড়া বিপিএল আবারও মাঠে গড়াতে যাচ্ছে এবং ক্রিকেটাররাও ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। বিসিবিও এ ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখিয়েছে।
তবে সচেতন মহলের অভিমত, বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার রাতে যে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কোয়াবের সঙ্গে বসে সমঝোতায় পৌঁছেছে, সেই বৈঠকটি আরও আগেই করা যেত। তাহলে এতটা অচলাবস্থা, পানি ঘোলা হওয়া কিংবা জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না—দু’পক্ষকেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।
সবকিছুর পরেও আশার কথা, বিপিএল শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াচ্ছে এবং খেলোয়াড়রা ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।