রংপুরের সহজ জয়:
৪০০ উইকেটের মাইলফলকে মোস্তাফিজ
অপেক্ষা ছিল মাত্র একটি উইকেটের। তাতে লাগল স্রেফ দুই বল। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে টি–টোয়েন্টিতে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়ে পরে আরও দুই শিকার ধরলেন বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। সঙ্গে ফাহিম আশরাফের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ইনিংসে বিপিএলে জয়ের ধারায় ফিরল রংপুর রাইডার্স।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেট টাইটান্সকে ৬ উইকেটে হারায় রংপুর। সিলেটকে ১৪৪ রানে আটকে রেখে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ৭ বল হাতে রেখেই।
চার ওভারে ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন মোস্তাফিজ। টি–টোয়েন্টিতে ৩১৫ ম্যাচে তার উইকেট এখন ৪০২টি। বিশ্বের ১১তম ক্রিকেটার হিসেবে এই সংস্করণে ৪০০ বা তার বেশি উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। পেসারদের মধ্যে দ্রুততম এই কীর্তি গড়েছেন মোস্তাফিজ; আগের রেকর্ডধারী ওয়াহাব রিয়াজের লেগেছিল ৩৩৫ ম্যাচ। বাংলাদেশের হয়ে এর আগে এই তালিকায় ছিলেন কেবল সাকিব আল হাসান (৫০৭ উইকেট)।
ফাহিম আশরাফ ছিলেন সমান কার্যকর। চার ওভারে ১৮ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। তিন ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি এখন পাকিস্তানের এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
ব্যাট হাতে সিলেটের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন আফিফ হোসেন (৩১ বলে, ৪ চার ও ১ ছক্কা)। তবে নিয়মিত উইকেট পড়ায় বড় সংগ্রহ গড়া হয়নি স্বাগতিকদের। পঞ্চম উইকেটে আফিফ ও ইথান ব্রুকসের ৬৬ রানের জুটিই ছিল তাদের একমাত্র উজ্জ্বলতা।
রান তাড়ায় শুরুতে দাভিদ মালান থামেন ১৯ রানে। লিটন দাস (২৫ বলে ৩৫) ও কাইল মেয়ার্স (২৯ বলে ৩১) জুটি গড়ে এগিয়ে নেন রংপুরকে। শেষদিকে অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ আগের ম্যাচের হতাশা ঝেড়ে ফেলেন দুর্দান্তভাবে। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ বলে অপরাজিত ৩৪ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন ৩৯ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই।
আগের দিন শেষ বলে টাই হয়ে সুপার ওভারে হারলেও, এবার আর ভুল করেনি রংপুর। মোস্তাফিজের ঐতিহাসিক দিনে আত্মবিশ্বাসী জয় তুলে নিল তারা।