Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

অপে ক্ষা

  • Days
  • Hours
  • Min
  • Sec

ঢাকায় সাফা আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টসের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অতিথিরা | ছবি: সৌজন্য
নৈতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও টেকসই প্রতিবেদন যখন ক্রমেই ব্যবসায়িক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা এবং জনআস্থার রূপরেখা নতুনভাবে নির্ধারণ করছে, তখন বৈশ্বিক হিসাব পেশা এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে—এমন মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টসের (সাফা) আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন বিশেষজ্ঞরা ।

দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) আয়োজিত সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘পরবর্তী প্রজন্মের পেশা: নৈতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও টেকসই প্রতিবেদন একীভূতকরণ’।

সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিএবির সাবেক সভাপতি ও রহমান রহমান হক, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের সিনিয়র পার্টনার আদীব হোসেন খান এফসিএ।

তিনি বলেন, টেকসই প্রতিবেদন ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আর দূরবর্তী কোনো ধারণা নয়; এটি ইতোমধ্যেই অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি, পরিমাপ ও প্রকাশের কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন এনেছে।

সম্মেলনে জাতীয় নেতৃত্ব, হিসাববিদ ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কৌশলগত সংলাপ এবং জ্ঞানভিত্তিক আলোচনাতে অংশ নেন আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা থেকে আগত প্রতিনিধিরা। সম্মেলনে তিনটি টেকনিক্যাল সেশন ও একটি সমাপনী সেশনে- বক্তব্য ভবিষ্যৎ পেশা, এআই ও টেকসই প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন এ এইচ এম আহসান এবং বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া। আয়োজকদের মতে, তাদের উপস্থিতি হিসাব ও আর্থিক খাতে পেশাগত উৎকর্ষ, নৈতিক মান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে সরকারের দৃঢ় সমর্থনের প্রতিফলন।

আইসিএবির সভাপতি এন কে এ মোবিন এফসিএ স্বাগত বক্তব্য দেন। আরও বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন কমিটির চেয়ারম্যান ও আইসিএবির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ ফরহাদ হোসেন এফসিএ।

প্রথমবারের মতো বিশ্বের শীর্ষ হিসাব পেশা সংস্থার প্রধান, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস এর সভাপতি জ্যঁ বুকো আইসিএবির আমন্ত্রণে ঢাকায় এ সম্মেলনে অংশ নেন। অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাফার উপদেষ্টা আশফাক ইউসুফ তোলা এফসিএ।

জ্যঁ বুকো বলেন, এই সম্মেলনের আলোচনা বৈশ্বিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি টেকসই প্রতিবেদন, নৈতিক এআই ও ভবিষ্যৎ পেশাগত অনুশীলনের গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। তিনি আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতার ওপর জোর দেন।

পেশাজীবী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও মান নির্ধারকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে আইফাক প্রেসিডেন্ট জ্যঁ বুকো বলেন, সততা ও জনস্বার্থকে কেন্দ্র করে এআই পরিচালনা করতে পারলে হিসাববিদরা অনিশ্চয়তাকে সুযোগে পরিণত করতে পারবেন এবং একটি আরও টেকসই ও সহনশীল অর্থনীতি গঠনে অবদান রাখতে হবে।

আইসিএবির সভাপতি এন কে এ মোবিন বলেন, এটি পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযাত্রা। নৈতিক এআই ও টেকসই প্রতিবেদনের পথে এগিয়ে যেতে সততা, নিরপেক্ষতা ও জনসেবার চিরন্তন মূল্যবোধই আমাদের পথ দেখাবে। বিশ্ব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নৈতিক, দক্ষ ও দূরদর্শী হিসাববিদের প্রয়োজন অনুভব করছে। আইসিএবি বৈশ্বিক সর্বোৎকৃষ্ট মান বঝায় রাখতে বিভিন্ন পেশাগত পরিকল্পনা ও কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

টেকনিক্যাল অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক উল্লেখ করেন যে, আধুনিক টেকসই প্রতিবেদন এখন মূলধন বণ্টন, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং বাজারের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে, কারণ জলবায়ু ও সুশাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলো মূল আর্থিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে। হিসাব পেশার পরিসর এখন আর কেবল হিসাবরক্ষণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ঝুঁকি মডেলিং, মূল্যায়ন, নিরীক্ষা, অনুসন্ধান এবং নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এআই স্বচ্ছতা ও ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বিশ্লেষণ জোরদার করতে পারে, কিন্তু এর কোনো নৈতিক দায় বা ফিডিউশিয়ারি দায়িত্ব নেই। এই দায় সর্বদাই মানুষের ওপর বর্তায়, তাই নৈতিক অনুশাসন অপরিহার্য।

আদীব হোসেন খান জলবায়ু পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, সরবরাহ শৃঙ্খলে কার্বন নিরূপণ এবং রিয়েল-টাইম ইএসজি কর্মদক্ষতা পর্যবেক্ষণের মতো উদীয়মান এআই প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেন।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতার অভাব, বিচ্ছিন্ন ইএসজি তথ্য এবং পক্ষপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় যথাযথ নৈতিক কাঠামো না থাকলে জনআস্থা ক্ষুন্ন করতে পারে।

সম্পর্কিত খবর :