Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

শিশুদের এআইচালিত খেলনা নিয়ে উদ্বেগ, সতর্ক থাকার অঙ্গিকার নির্মাতাদের

বর্তমান সময়ে শিশুদের খেলনায়ও যোগ হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা | ছবি: সংগৃহীত
শুরুতে নানা বিতর্কের জন্ম দিলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইচালিত খেলনাশিল্পকে এখন ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে চলমান কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স শোতে (সিইএস) অংশ নেওয়া খেলনা নির্মাতারা এবার শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার অঙ্গিকার করেছেন।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) লাস ভেগাস থেকে করা এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

সম্প্রতি পাবলিক ইন্টারেস্ট রিসার্চ গ্রুপের (পিআইআরজি) একটি প্রতিবেদনে এআই খেলনার ভয়াবহ কিছু দিক উঠে আসে। সেখানে দেখা যায়, একটি এআইচালিত টেডি বিয়ার শিশুকে যৌনতা বিষয়ক পরামর্শ দিচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের স্টার্টআপ ‘ফোলোটয়’-এর তৈরি ‘কুম্মা বিয়ার’ নামের একটি খেলনা ভাল্লুক শিশুকে যৌনসঙ্গী বিষয়ক অদ্ভুত সব পরামর্শ দেয়। গত নভেম্বরে ‘ট্রাবল ইন টয়ল্যান্ড’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। চাপে পড়ে কোম্পানিটি সাময়িকভাবে ওই খেলনাটির বিক্রি বন্ধ করে দেয়।

ফোলোটয়-এর প্রধান নির্বাহী ওয়াং লে এএফপি’কে জানান, তারা এখন ওপেনএআই-এর আরও উন্নত সংস্করণ ব্যবহার করছেন। তিনি দাবি করেন, পিআইআরজি খেলনাটি পরীক্ষার সময় এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেছিল যা শিশুরা সাধারণত ব্যবহার করে না। তবে নতুন সংস্করণের খেলনাটি এখন কোনো আপত্তিকর প্রশ্নের উত্তর দেবে না।

অন্যদিকে, খেলনা খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ম্যাটেলও তাদের প্রথম এআই খেলনা বাজারে ছাড়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। যদিও তারা পিআইআরজি-এর প্রতিবেদনের কথা সরাসরি উল্লেখ করেনি।

চ্যাটজিপিটির আসার পর জেনারেটিভ এআই দ্রুত অগ্রসর হয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের স্মার্ট খেলনার পথ খুলেছে।



পিআইআরজি মোট চারটি এআই খেলনা নিয়ে পরীক্ষা চালায়। এর মধ্যে ‘কিউরিও’ কোম্পানির ‘গ্রক’ নামক খেলনাটি সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে। চার পা-ওয়ালা রকেট আকৃতির এই নরম খেলনাটি ২০২৪ সাল থেকে বাজারে রয়েছে। এটি পাঁচ বছরের শিশুর অনুপযুক্ত কোনো প্রশ্নেরই উত্তর দেয়নি। নামের মিল থাকলেও এটি ইলন মাস্কের এক্সএআইয়ের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘গ্রক’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

খেলনাটির বিশেষ সুবিধা হলো, অভিভাবকরা চাইলে অ্যালগরিদমের উত্তরে হস্তক্ষেপ করতে পারেন। এটি শিশুদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ‘কিডসেফ’ সনদও পেয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই খেলনাটি সবসময় আশপাশের কথা শুনতে থাকে। এতে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি থেকেই যায়।

কিউরিও এএফপিকে জানায়, ব্যবহারকারীর তথ্য ওপেনএআই ও পারপ্লেক্সিটি’র মতো অংশীদারদের সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছে, এমন অভিযোগসহ পিআইআরজি প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলো সমাধানে কাজ করছে তারা।

পিআইআরজির ররি আরলিচ বলেন, ‘ঘরে চ্যাটবটযুক্ত খেলনা রাখার ক্ষেত্রে অন্তত অভিভাবকদের সতর্ক থাকা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘যেসব খেলনা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিশুর তথ্য সংরক্ষণ করে এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়, সেগুলো বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়।’

তর্ক-বিতর্ক থাকলেও এআই খেলনাকে গৃহশিক্ষক হিসেবে দেখার সুযোগও আছে। তুরস্কের কোম্পানি ‘এলেভস’ তাদের ‘সানি’ নামক খেলনাটি তৈরি করছে যা শিশুদের ভাষা শিখতে সাহায্য করবে। কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোকহান সেলেবি বলেন, ‘এআই যাতে বিভ্রান্তিকর কিছু না বলে, সেজন্য কথা বলার সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

আবার ‘অলি’ নামক কোম্পানি খেলনাগুলোতে এমন প্রোগ্রাম যুক্ত করেছে, যাতে শিশু কোনো অনুপযুক্ত শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করলে সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকদের সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।

অনেকেই মনে করছেন, খেলনা নির্মাতাদের ওপর এই নিরাপত্তার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়।

টেম্পল ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্যাথি হার্শ-পাসেক বলেন, ‘কেন আমরা এই খেলনাগুলোর ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছি না? আমি প্রযুক্তির বিরোধী নই, কিন্তু কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই এগুলো শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া ঠিক নয়। এটি শিশুদের এবং অভিভাবকদের সাথে অন্যায়।’

সম্পর্কিত খবর :