ইসরায়েল ও আমেরিকা স্বাধীনতাপ্রেমীদের হত্যা করছে: ইরানের প্রেসিডেন্ট
আরব বিশ্বের ক্যারিশম্যাটিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার ষষ্ঠ বার্ষিকী পালন করল ইরান। তিনি সিরিয়া ও ইরাক যুদ্ধে তার বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র্যালি ও স্মরণসভায় সরকারি কর্মকর্তা, সেনা সদস্য ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা সোলাইমানির ছবি এবং পতাকা হাতে নিয়ে তার নীতি ও নেতৃত্বকে স্মরণ করেন।
৬২ বছর বয়সী জেনারেল কাসেম সোলাইমানি কুদস বাহিনীর প্রধানের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারের মূল স্থপতি ছিলেন।২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি, ইরাকের বাগদাদে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন তিনি। এতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে আরও চির ধরে।
ওই অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের প্রভাব ঠেকাতে সোলাইমানিকে টার্গেট করে ওয়াশিংটন।
হত্যার ষষ্ঠ বার্ষিকী সমাবেশে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ও আমেরিকা মিলে ইসলামি দেশগুলোর দক্ষ মানুষ এবং স্বাধীনতাপ্রেমীদের হত্যা করছে।
তিনি বলেন, সভ্যতা, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষার নামে ইসরায়েল ও আমেরিকা মিলে আজ বিশ্বে যা করছে,তা হলো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ। তারা রাষ্ট্রের ক্ষমতা ব্যবহার করে আমাদের দেশ ও সকল ইসলামি দেশগুলোর দক্ষ মানুষ এবং স্বাধীনতাপ্রেমীদের হত্যা করছে।
এদিকে, ইরানে জাতীয় মুদ্রার দরপতন, মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন সহিংস রূপ নিয়েছে।
লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে গত দুইদিনে সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৭ জন।
একই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষেও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় কুহদাশত শহরে বিক্ষোভ চলাকালীন বাসিজ বাহিনীর ২১ বছর বয়সী এক সদস্য নিহত হয়েছেন।
জনশৃঙ্খলায় বিঘ্ন সৃষ্টি এবং সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে ৩০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।