শাকসু নিয়ে ছাত্রদলের মন্তব্য, শাবিপ্রবিতে ফের বিক্ষোভ
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সামনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্তৃক সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর ২টা থেকে শাবিপ্রবির ‘প্রশাসনিক ভবন-১’ এর সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিক্ষোভ করেন তারা।
বিক্ষোভকালে শিক্ষার্থীরা শাকসু নিয়ে তালবাহানা, চলবে না চলবে না; ২০ তারিখে শাকসু, দিতে হবে দিতে হবে; ঢাকায় বসে শাকসু, বন্ধ করা যাবে না; স্বৈরাচারের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও; ষড়যন্ত্র করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না; হারার ভয়ে খেলে না সেই কথাতো বলে না প্রভূতি স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আশা করছিলাম ২০ তারিখে উৎসবমুখর পরিবেশে শাকসু নির্বাচন হবে। কিন্তু একটি মহল একদিকে শাকসুর পক্ষে কথা বলে, আবার তাদের কেন্দ্রীয় নেতারা শাকসু বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করে। এটি দ্বিচারিতা ছাড়া কিছু নয়। আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, আপনারা যথেষ্ট দুর্বলতা দেখিয়েছেন। এজন্যই শাকসু আজ এই অবস্থায় এসেছে। বারবার বাধার মুখে পড়ছে। আপনারা শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাঁড়ান এবং নির্ধারিত সময়ে শাকসু নির্বাচন দিন।
পরিবহন সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র নির্বাচন করা রিয়াজ হোসেন রিমন বলেন, ‘২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে আমরা খবর পেয়েছি সকাল থেকে একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করেছে। শাকসু নির্বাচন কমিশন যথাসময়ে নির্বাচনের আশ্বাস দিলেও একটি পক্ষ প্রথম থেকে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তবে, আমরা কোনো আপোস করবোনা ২০ তারিখে শাকসু আদায় করে ছাড়বো।’
এ বিষয়ে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘আজকে ইসি ভবনের সামনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকে ইসি ভবন ঘেরাও কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই আমাদের সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেল কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সকল সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য নয়। আমাদের এই প্যানেল ছাত্রদলের কোন একক প্যানেল নয়, এখানে অর্ধেকের মত স্বতন্ত্র প্রার্থীও আছে। আমি এই প্যানেলের ভিপি হিসেবে স্পষ্টভাবে জানাতে চাই আমরা সকলেই শাকসুর পক্ষে এবং শাকসু চাই।’
তিনি আরও লিখেন, ‘কেউ বা কারা যদি শাকসুর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় বা নিতে চায় আমরাও তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য হব। ইনশাআল্লাহ শাকসু হবে, হতেই হবে। আমরা ২০ তারিখে শাকসু আদায় করে ছাড়বো।’