Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটে রোগীর মৃত্যু, মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি | সংগৃহীত
শরীয়তপুরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধার কারণে ঢাকা নেওয়ার পথে এক স্ট্রোক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় পালং মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তি স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন খান (৩৮)।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে নিহত জমশেদ আলী ঢালী (৭৫)-এর নাতি জুবায়ের হোসেন রুমান ঢালী পালং মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় চারজনকে নামীয় এবং আরও ৫–৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন,অ্যাম্বুলেন্স চালক সজিব (২৮), পারভেজ (২৬) ও হান্নান (২৫)।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ-আলম মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার পর একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে শরীয়তপুর সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা জমশেদ আলী ঢালী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকাল ৯টার দিকে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক স্ট্রোকের লক্ষণ শনাক্ত করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে রেফার করেন।

রোগীর পরিবার প্রথমে সাড়ে ছয় হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করলেও স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা দাবি করেন। এতে রাজি না হয়ে পরিবার পরিচিত ঢাকাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ঠিক করে। সিন্ডিকেটের বাধার আশঙ্কায় হাসপাতাল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে চৌরঙ্গী মোড় এলাকা থেকে রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়।

অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিলে সদর উপজেলার প্রেমতলা এলাকায় ১০–১২ জনের একটি দল গাড়িটি আটকে দেয়। পরে জাজিরা উপজেলার জামতলা এলাকায় আবারও ব্যারিকেট দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি থামানো হয়। এ সময় চালক ও হেলপারকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। দুই দফা বাধার কারণে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত ঢাকার বাংলামোটর এলাকায় পৌঁছালে বিকেল ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই জমশেদ আলী ঢালীর মৃত্যু হয়। পরে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের নাতি জুবায়ের হোসেন রুমান বলেন, 'অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধা ও মারধরের কারণেই আমার নানাকে সময়মতো ঢাকায় নেওয়া সম্ভব হয়নি। এই দেরিতেই তার মৃত্যু হয়েছে। আমি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।'

অন্যদিকে, ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্সের চালক মো. সালমান অভিযোগ করে বলেন, 'স্থানীয় সিন্ডিকেটের অনুমতি ছাড়া রোগী নিলে আমাদের বাধা দেওয়া হয়। কমিশন না দিলে মারধর ও গাড়ি আটকানো হয়। এই ঘটনায় দুই ঘণ্টা নষ্ট হয়েছে, যা রোগীর মৃত্যুর বড় কারণ।'

তবে গ্রেপ্তারের আগে অভিযুক্ত সুমন খানের দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে যাননি এবং সরাসরি কোনো বাধা দেননি। যদিও পুলিশ বলছে, তদন্তে তার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল হাই মোল্লা বলেন, 'রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সে বাধা দেওয়া ন্যাক্কারজনক। কেউ জড়িত থাকলে তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।'

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার রাশেদ আহমেদ জানান, নিহত রোগীর উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের লক্ষণ ছিল, তাই দ্রুত ঢাকায় নেওয়া জরুরি ছিল।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. রেহান উদ্দিন বলেন, 'বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণে সরকারি নীতিমালা না থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারে না। তবে কেউ অপরাধ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।'

উল্লেখ্য, এর আগেও শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধার কারণে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। বারবার এমন ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত খবর :