Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ 'শাটডাউন'

অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন সিলগালা

ইঞ্জিয়ারিং কলেজে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা | স্টার নিউজ
দীর্ঘ চার মাস ধরে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকা, আবাসন সংকট এবং ধারাবাহিক আন্দোলনের পরও কার্যকর কোনো সমাধান না পাওয়ায় বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ শাটডাউন ঘোষণা করেছে।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বরিশাল নগরীর ভোলা রোডে অবস্থিত বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কলেজ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি নিয়ে তারা আন্দোলনে নামেন। সে সময় শিক্ষা উপদেষ্টার উদ্যোগে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও শিক্ষকবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা এবং ক্যাম্পাস পরিদর্শনের মাধ্যমে একটি সুপারিশভিত্তিক প্রতিবেদন প্রণয়ন করে। প্রতিবেদনটি সাধারণ শিক্ষার্থীরা সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করে শান্তিপূর্ণভাবে সমর্থন জানালেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করে প্রতিবেদন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেদন দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে শিক্ষার্থীরা দুই দিনের আল্টিমেটাম দেয় এবং জেলা প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক দপ্তর ও কলেজ প্রশাসনের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট বা সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজের সকল অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ শাটডাউন ঘোষণা করা হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় না। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে তারা সবসময় প্রস্তুত। তবে দ্রুত বাস্তবসম্মত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে শিক্ষার্থীরা তাদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সর্বস্তরের সমর্থন প্রত্যাশা করেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. সাদিক বলেন, 'এর আগেও আমরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছি। তখন কর্তৃপক্ষ দাবি মেনে নিলেও বাস্তবায়ন করেনি। এ কারণেই আজ আবার সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে।'

শিক্ষার্থী অপূর্ব কুমার দাস জানান, আন্দোলনে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী রাগিব শাহরিয়ার, লুৎফার রহমান, আহনাফ প্রামানিকসহ অন্যান্যরা।

সম্পর্কিত খবর :