‘জয় বাংলা’ স্লোগানে বিএনপি প্রার্থীর ভোট চাইলেন আওয়ামী লীগ নেতা
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার ইউনিয়নে বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুকে সমর্থন জানান মহিষার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌকিদার।
এ সময় ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন মোড়ল, মহিষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অরুণ হাওলাদার, মহিষার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার সরদারসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন জানান বলে দাবি করা হয়।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রফিকুল ইসলাম চৌকিদার বলেন, উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অপু ভাইকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে। তিনি আরও বলেন, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু তারেক রহমান তথা জিয়া পরিবারের একজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ভেদরগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন।
তার এই স্লোগানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে দলীয় আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করছেন।
এ বিষয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে এ প্রসঙ্গে ভেদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বিএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নেতার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা দলবল নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চাই। কে আওয়ামী লীগ, কে জামায়াত, এটা বড় বিষয় নয়। তিনি একজন ভোটার, আওয়ামী লীগ করেন, করতেই পারেন। আমাদের ভোটের প্রয়োজন। আমরা এ দেশে কোনো বৈষম্য চাই না। নির্বাচনী প্রচারণায় কে কী বললো, তা আমরা আলাদা করে আমলে নিই না।’
ভাইরাল ভিডিও ও এ নিয়ে চলমান আলোচনা শরীয়তপুরের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।