Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

যশোরে তালপাতায় লিখে শিক্ষাজীবন শুরু করলো ২০০ শিশু

যশোরে শিশুদের হাতে কলম তুলে দেন অতিথিরা | ছবি: স্টার নিউজ
পৌষের মিষ্টি সকালে মা আর দাদির সঙ্গে উদীচীর হাতেখড়ি উৎসবে এসেছে আদিয়াত ফাইয়াজ নামে এক শিশু। তালপাতায় অ আ ক খ লেখার আনন্দ তাকে উৎসাহিত করছে। এর আগে কখনও এমন উৎসব করে বর্ণ লেখা শেখা হয়নি তার। বাবা-মা, দাদা-দাদি ও ফুফুর কাছে বাড়িতে স্লেটে বর্ণ লেখা শেখা শুরু তার।

ফাইয়াজ আধো আধো কণ্ঠে বলে, ‘আমি খুশি। পাতায় অ, আ লিখেছি। অনেক আনন্দ লাগছে।’

ফাইয়াজের মতো ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় তালপাতায় মাতৃভাষায় বর্ণ লিখে শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি হলো যশোরে ২শ শিশুর। উদীচী যশোর পরিচালিত অক্ষর শিশু শিক্ষালয়ের আয়োজনে হাতেখড়ি উৎসবে আলোকিত মানুষ শিশুদের হাত ধরে তালাপাতার উপর লিখে তাদের বিদ্যা অর্জনের শুভ সূচনা করে।

হাতেখড়ি উপলক্ষে শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল থেকেই ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ মাঠে বসেছিল শিশুমেলা। শিশুমেলায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার আলোকিত মানুষেরা। এ আলোকিত মানুষের হাত ধরেই আলোকিত জীবন গড়ার প্রত্যয় নিয়ে শিশুরা শিক্ষা জীবনের শুরুতে দেয়া হলো হাতেখড়ি।

অতিথিদের নিয়ে তালপাতায় লিখে শিশুদের হাতেখড়ি দেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, যশোর কলেজের অধ্যক্ষ মুস্তাক হোসেন শিম্বা, ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের অধ্যক্ষ জেএম ইকবাল হোসেন, সংবাদপত্র পরিষদ যশোরের সভাপতি একরাম উদ দ্দৌলা, অক্ষর শিশু শিক্ষালয়ের অধ্যক্ষ শৈলেশ কুমার রায়, সাংবাদিক ও ইতিহাস গবেষক সাজেদ বকুল প্রমুখ।

ফারজানা বৃষ্টি নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার যমজ সন্তানকে নিয়ে এসেছি তালপাতার হাতে খড়ি দিতে। এটি প্রশংসিত ও ভিন্নধর্মী আয়োজন। এ ধরণের আয়োজন যশোরে কেউ করে না। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের এমন পরিবেশে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এমন আয়োজনের ধারাবাহিকতা থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা। যশোরে বৃহৎ পরিসরে এ আয়োজনে অভিভূত হয়েছেন অন্য অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরাও।

অতিথিদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীতের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় এ উৎসব। এরপর একে একে পরিবেশন করে উদীচী শিশু শিল্পীদের সংগীত ও দলীয় নৃত্য। এরপর অতিথিদের নিয়ে তালপাতায় লিখে শিশুদের হাতেখড়ি দেন বিভিন্ন গুনিজনেরা।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন যশোরের শিক্ষাবিদ পাভেল চৌধুরি। তিনি বলেন, ‘স্কুল জীবনে জ্ঞানার্জনের শুরুতে সার্বজনীন এমন আয়োজন উপস্থিত শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে। শিক্ষার শুরুতে শিশুদের নিয়ে এমন আয়োজন করায় উদীচীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।’

উদীচী যশোরের সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু বলেন, গত ১৯ বছর ধরে হাতে খড়ি উৎসবের আয়োজন করছে। অতীতে আমাদের শিক্ষাগুরুরা নতুন শিক্ষার্থীদের হাতেখড়ির মধ্যে দিয়ে তার মঙ্গল কামনা করতো। উদীচী এই আদি সংস্কৃতি ধারণ করে, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অতীতের সংস্কৃতিটা পৌঁচ্ছে দেওয়ার প্রয়াসের মাধ্যমে মঙ্গল কামনা করে। সর্বসাধারণের মধ্যে বিকশিত করতে এ উৎসব আয়োজনের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, সমাজের আলোকিত মানুষের হাত ধরেই আলোকিত জীবন গড়বে আগামীর এসব শিশুরা এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

সম্পর্কিত খবর :