Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

তারেক রহমানের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে কেন প্রশ্ন উঠে না, প্রশ্ন এনসিপি প্রার্থীর

সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এহতেশাম হক | ছবি: স্টার নিউজ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট-১ আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী এহতেশাম হক। কিছুদিন আগে দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তার।

নিজের মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বেলা ২টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এহতেশাম হক বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব পরবর্তী এই রাষ্ট্রে কেন প্রশ্ন উঠছে না? যে সদ্য বিদেশ ফেরত জনাব তারেক রহমান, উনার তো দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল। যেহেতু আমরা জানি, অনলাইনে অ্যাভিডেন্স দেখা গেছে- যে উনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বলে উনি উল্লেখ করেছেন। এখনো পর্যন্ত কেন এই দেশের সাংবাদিক সমাজ বা সচেতন সমাজে এই প্রশ্ন করেন না যে, আমাদের জানার অধিকার আছে আপনার দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে কি-না? থেকে থাকলে, ওইটা কি আপনি ছেড়েছেন কি-না? এই প্রশ্ন কেন উঠে না। এই প্রশ্ন কেন করা যাবে না?’

এনসিপির এই নেতা তার প্রার্থিতা বাতিল করায় সিলেটের রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’ ও ‘হিপোক্রেসির’ অভিযোগ তুলেন। তিনি দাবি করেন, একই ধরণের পরিস্থিতিতে অন্য প্রার্থীর ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানো হলেও তার ক্ষেত্রে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।

এহতেশাম হক বলেন, ‘আমি পূর্ণ সততার সঙ্গে গত ২৯ ডিসেম্বর আমার মনোনয়ন পত্র দাখিল করি। বাংলাদেশে সাধারণত মানুষ সততার আশ্রয় নেয় না, কিন্তু আমি লিখেছি যে আমার দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল এবং তা আমি সারেন্ডার করেছি। আমি লিখতে পারতাম যে আমি দ্বৈত নাগরিক না, যেমনটা অনেকে করে। কিন্তু আমি অসততার সঙ্গে জনগণের প্রতিনিধিত্বের আবেদন করতে চাইনি।’

রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসার বললেন আমি প্রপার কাগজপত্র দিতে পারিনি, তাই আমারটা বাতিল। ঠিক ৩০ সেকেন্ড পরে তিনি সিলেট-৩ এর প্রার্থীর ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত দিলেন।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসার নিজে প্রণোদিত হয়ে বললেন হোম অফিস যেহেতু বন্ধ, তাই তিনি কন্ডিশনালি (শর্তসাপেক্ষ) আব্দুল মালেক সাহেবের মনোনয়ন বৈধ করলেন। আমার প্রশ্ন-আমার ক্ষেত্রেও তো হোম অফিস বন্ধ ছিল, আমার ক্ষেত্রেও তো রিটার্নিং অফিসার কন্ডিশনালি দিতে পারতেন।’

এহতেশাম হক এই ঘটনাকে ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে না দেখে পুরো ব্যবস্থার ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা অন্যায় এবং দ্বিচারিতা। এটা শুধু এহতেশাম হকের প্রার্থিতার ব্যাপার না, এটা পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের আমলাতন্ত্রের একটা সিমটম। প্রশাসনের এই হিপোক্রেসিটা যাতে দেশবাসী জানে, সেজন্যই আপনাদের মাধ্যমে এটা তুলে ধরছি। আমি চাই আইন যেন আমার ওপর ঠিক অন্য সবার মতোই সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়।’

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এখানে স্পষ্টত একটা আসন্ন সরকারের বা একটা বড় রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কমিশন কীভাবে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে? কীভাবে নিশ্চিত করবে যে কেউ কেন্দ্র দখল করবে না।’

তিনি জানান, এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। এহতেশাম হকের মতে, বর্তমানে ক্ষমতার একটি বড় কেন্দ্র তৈরি হয়েছে যা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ও আমলাতান্ত্রিক গোষ্ঠীর অনুকূলে কাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সারোয়ার আলম একজন সেলিব্রেটি অফিসার। তিনি নিবেদিত প্রাণ ও কর্মঠ। আমি মনে করি তিনি হয়ত অবচেতনভাবেই মনে করেছেন বিএনপির প্রার্থী হেভিওয়েট-আমি উনাকে ছাড় দিতেই পারি। আর আমি (এহতেশামুল হক) ছোট দলের প্রার্থী- তাকে বাদ দিতেই পারি।’

তিনি বলেন, ‘আমি তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি-পুরো দেশজুড়ে আমলাতন্ত্রের যারা আছেন, যারা অসৎ তারা কী করবে, মূল মেসেজটাই এটা। আমার মনে হয় না তিনি সচেতনভাবে এটা করেছেন।’

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যারা রাজনীতি করি আমরা জনপ্রতিনিধি, কোন কিছু হলে আমরা জনগণের সামনে যাব। আমাদের দেশের একটা রাজনৈতিক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়-সরকারি চাকরিজীবীরা জনপ্রতিনিধিদের মতো আচরণ করে। সেলিব্রেটিদের মতো-তাদের পেছনে পেছনে যাতে ক্যামেরা ঘুরে, শ্রুতিবাক্য-কবিতা লেখা হয়, ছবি তোলা হয়। জনগণের ট্যাক্সে আপনারা বেতন পান আপনাদের এতো সেলিব্রেটি হওয়া তো বিপজ্জনক। পৃথিবীর কোন সভ্য দেশে এমন কোন উদাহরণ পাবেন না। তারা অলমোস্ট রাজনৈতিকভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন- তারা এটা কেন করেন, যাতে হয়ত অবসরে যাওয়ার পর রাজনীতিতে আসবেন। সরকারি চাকুরিজীবি ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সেপারেশানটা থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- এনসিপির সিলেট মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল, জেলা আহ্বায়ক মো. জুনেদ আহমদ, মহানগর সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া ও জেলা সদস্য সচিব প্রকৌশলী কামরুল আরিফ, মহানগর যুগ্ম আহবায়ক নিজাম উদ্দিন ও যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিয়া আক্তার লুবনা, প্রমুখ।

সম্পর্কিত খবর :