মবোক্রেসি কালচারে রূপান্তরিত হয়েছে: মির্জা ফখরুল
অন্তবর্তী সরকার ক্ষ্মতায় আসার পর থেকে মব ভায়োলেন্স, মবোক্রেসি একটা কালচারে রূপান্তরিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর । এখান থেকে সচেতনভাবে সবাইকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর একটি হোটেলের হলরুমে সিলেটের গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘসময় আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য সংগ্রাম করেছি, লড়াই করেছি। এই সময়ে আমাদের বিএনপির শুধু প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। সিলেটের কৃতি সন্তান এম ইলিয়াস আলীসহ প্রায় ১৭০০ নেতাকর্মীকে গুম করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গোটা বাংলাদেশে তারা একটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে গিয়েছিল। ভয় দেখিয়ে তারা মানুষকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল। পরে ছাত্রজনতার জুলাই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে এই ফ্যাসিস্ট শক্তি পরাজিত হয়েছে এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এরপরে অন্তবর্তী সরকারের নির্বাচনের ঘোষণার মধ্যে দিয়ে একটা আশার সঞ্চার হয়েছে জনগণের মধ্যে। যদিও অনেকে অনেক অনিশ্চয়তার কথা বলেন, পত্রপত্রিকায় আসে তারপরও আমরা নির্বাচনের যেই পথ, সেই পথে এগোচ্ছি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে নির্বাচন হওয়ার কথা। বাছাইপর্ব শেষ হয়েছে, পরে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। এই নির্বাচন শুধু আমাদের কাছে না, পুরো জাতির কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।
তিনি আরও বলেন, এই সরকার অন্তবর্তী সরকার। এখন এটা কেয়ারটেকার সরকারে রূপ নিয়েছে। এটার পেছনে জনগণের ম্যান্ডেট নাই। কিন্তু এরমধ্যে তারা যেই কাজগুলো করেছে, সেটার জন্য অবশ্যই তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে। তারা ইতোমধ্যেই সংস্কারের ব্যাপারে যে কাজগুলো করেছে, এই কাজগুলো বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আমরা বিশ্বাস করি সংস্কারের বিষয়ে আমরা রাজনৈতিক দলগুলো সকলে একমত হয়েছি। এর মাধ্যমে আমাদের রাজনৈতিক কাঠামোতে গুণগত পরিবর্তন আসবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমাদের খুব বেশি আশঙ্কা ছিল না। মিডিয়ার যারা আছেন আপানারা আশঙ্কার কথা বলেন, টকশো যারা করেন, তারা বলেন। কিন্তু, দল হিসেবে আমরা কোনো আশঙ্কা করিনি। আমরা প্রথম থেকেই নির্বাচন চেয়েছি, নির্বাচনের পথে থেকেছি, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছি এবং আমাদের বিশ্বাস ছিল যে নির্বাচন সঠিক সময়ে হবে। এবং প্রধান উপদেষ্টা ও আমাদের নেতা তারেক রহমানের সাথে লন্ডনে যে বৈঠক হয়েছে, এরপর থেকেই কিন্তু নির্ধারিত হয়ে গেছে ইলেকশন হচ্ছে এবং সঠিক সময়ে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ূম চৌধুরী, মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কয়েস লোদী, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ মালেক প্রমুখ।