Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

কে কী বলল তা বিবেচ্য নয়, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন | ছবি: সংগৃহীত

অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; এর একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়।’

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যান প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি তাদের এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবরের বন্যা ও পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতিতে অটল। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনী ফল ঘোষণা শেষে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।’

নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে পক্ষপাতমুক্ত প্রশাসন পরিচালনা করবে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। জনগণের সম্মতি পেলে জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক শাসনের এক নতুন যুগের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের কোনো সুযোগ রাখবে না।’

প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকরা নির্বাচনকে ঘিরে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন সচেতন। ক্রমেই তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও শনাক্ত করতে পারছে।’

সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি গোম্বিস একমত পোষণ করে বলেন, ‘ভুয়া খবর বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের ‘প্রধান শত্রুদের একটি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।’ এই হুমকি মোকাবিলায় আরও জোরাল প্রচেষ্টার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানান।

বৈঠকে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রেকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ-পরবর্তী সময়ের মত বাংলাদেশে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রেকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া ‘এই মুহূর্তে সম্ভব নয়’ বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘সাবেক শাসকরা এখনো তাদের অপরাধ অস্বীকার করে যাচ্ছে; ফলে এ ধরনের প্রক্রিয়া শুরুর পরিবেশ তৈরি হয়নি।’

নেলসন ম্যান্ডেলার ‘বন্ধু’ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘সত্য ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়া’ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরে ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো সেরকম উদ্যোগ নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গোম্বিস এবং সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ মর্স ট্যান নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ সফর করছেন।

এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ও সফররত কূটনীতিকরা আসন্ন নির্বাচন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও এর পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকে লক্ষ্য করে ছড়ানো ভুয়া খবর ও মিসইনফরমেশন, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনে’র সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

দুই কূটনীতিক গত দেড় বছরে সরকার পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য প্রশংসা করেন।

বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদও উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত খবর :