খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২৬ শুরু
খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২৬-এর প্রথম দিন আজ। নতুন বছর মানেই নতুন সম্ভাবনা, বিগত বছরের পঙ্কিলতা পেছনে ফেলে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাওয়া।
গত বছরের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি ভুলে সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে মাঝরাতে বাংলাদেশও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বরণ করে নিয়েছে খ্রিষ্টীয় নতুন বছরকে। বাংলাদেশে খ্রিষ্টীয় নতুন বছরকে বরণের রীতি বাংলা নববর্ষের মতো ব্যাপক না হলেও এ উৎসবের আন্তর্জাতিকতার ছোঁয়া থেকে বাংলাদেশের মানুষও বিচ্ছিন্ন নয়।
যদিও দিনটি বাংলাদেশের জন্য ছিল বেদনার। কারণ আধিপত্যবিরোধী সংগ্রামের প্রতীক, বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কোটি মানুষকে কাঁদিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন পরপারে। তার মৃত্যুতে বছরের শেষ দিনটিতে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করেছে জাতি। নতুন বছরের প্রথম দিন- আজ ১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) এবং আগামীকাল ২ জানুয়ারিও রয়েছে রাষ্ট্রীয় শোক।
তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নতুন বছর ঘিরে রাজধানীজুড়ে পটকা ও আতশবাজি ফোটাতে দেখা গেছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে, সময় অনুযায়ী ১ জানুয়ারির প্রথম প্রহরে, রাজধানীর প্রায় সব এলাকায় আতশবাজি ও পটকা ফাটার বিকট শব্দ শোনা যায়।
ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা ছুঁতেই আতশবাজি ও পটকা ফাটিয়ে খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২৬-কে স্বাগত জানায় নগরবাসীর একটি অংশ।
এদিকে, ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাত স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের প্রতিটি দেশ নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অনুযায়ী খ্রিষ্টীয় ২০২৬ সালকে স্বাগত জানায়। বর্ণিল আতশবাজি, আলোকসজ্জা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করা হয়। নতুন বছরের আগমনে আনন্দে মেতে উঠেছে সারা বিশ্ব।
খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২৬ উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস দেশে ও বিদেশে বসবাসরত সব বাংলাদেশিসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নতুন বছরে আরও জোরদার হোক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। নতুন বছর সকলের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। সবাইকে শুভ নববর্ষ।’
তিনি বলেন, ‘নববর্ষ মানেই নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা ও নতুন সম্ভাবনার সূচনা। নতুনের এ আগমনী বার্তা আমাদের উদ্বেলিত করে। সব গ্লানি ভুলে সুন্দর আগামীর পথচলার জন্য যোগায় নবোদ্যম ও অনুপ্রেরণা।’
একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা সবাই দেশকে ভালোবেসে মানুষের কল্যাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করবো এমন আশা প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নতুন বছরে সব চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মোকাবিলা করে একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।’
ড. ইউনূস বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে নতুন বছর আমাদের জাতীয় জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ত্রুটিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে মেরামত করে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যে যাত্রা আমরা শুরু করেছি, নতুন বছরে একটি জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে তা পূর্ণতা পাবে বলে আমরা আশা করছি।’
বাণীতে তিনি বলেন, ‘সব ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করে এ নির্বাচন ও গণভোট আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে- নতুন বছরে এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।’