Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

স্বাস্থ্যকর খাবারে শিশুদের অভ্যাস গড়া

সংগৃহীত

স্বাস্থ্যকর খাবারে শিশুদের অভ্যাস গড়া

শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে তার খাদ্যাভ্যাস। কিন্তু বর্তমান সময়ে শিশুরা সহজেই আকৃষ্ট হচ্ছে বার্গার,পিৎজা, চিপস কিংবা অতিরিক্ত মিষ্টিজাত খাবারের দিকে।

রঙিন প্যাকেট, টিভি বিজ্ঞাপন আর মোবাইল স্ক্রিন সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার তাদের কাছে আকর্ষণ হারাচ্ছে। অথচ ছোটবেলা থেকেই যদি পুষ্টিকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তোলা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে একটি সুস্থ জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব।

ছোটবেলা থেকেই শুরু হোক অভ্যাস

শিশু যা দেখে, তাই শেখে এটাই বাস্তবতা। পরিবারের বড়রা যদি নিয়মিত শাকসবজি, ফলমূল, ঘরোয়া খাবার খায়, শিশুও স্বাভাবিকভাবে সেটাকেই গ্রহণ করবে। তাই স্বাস্থ্যকর খাবারে অভ্যস্ত করতে হলে প্রথমে অভিভাবকদেরই হতে হবে সচেতন। শিশুর সামনে জাঙ্ক ফুড খেয়ে আবার তাকে নিষেধ করলে সেই বার্তা কার্যকর হয় না।

খাবারকে আকর্ষণীয় করে তুলুন

শিশুরা চোখে দেখে খাবার পছন্দ করে। সেদ্ধ সবজি বা সাদামাটা খাবার অনেক সময় তাদের কাছে বিরক্তিকর মনে হয়।তাই একটু যত্ন নিয়ে খাবার সাজালে চিত্রটাই বদলে যেতে পারে।

রঙিন প্লেটে ভাত, ডাল, সবজি বা ফল সাজিয়ে দেওয়া, খাবারের আকারে মজার ছোঁয়া যোগ করলে এগুলো শিশুর আগ্রহ বাড়ায়। সবজিকে কার্টুনের আকৃতি বা ফল দিয়ে হাসিমুখ বানিয়ে কৌশলে শিশুকে খাবার দিন

জোর নয়, ভালোবাসায় শেখানো

খাবার নিয়ে জোরজবরদস্তি শিশুর মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।এটা খেতেই হবেএই চাপ শিশুকে খাবার থেকে আরও দূরে সরিয়ে দেয়। বরং ধীরে ধীরে বোঝানো, গল্প বলা বা খাবারের উপকারিতা সহজ ভাষায় তুলে ধরা বেশি কার্যকর। যেমন,গাজর খেলে চোখ ভালো থাকবে, দুধ খেলে হাড় শক্ত হবে

একসঙ্গে খাবার খাওয়ার অভ্যাস

পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে খাবার খেলে শিশুর মধ্যে খাবারের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। তখন খাবার কেবল খাওয়ার বিষয় থাকে না, হয়ে ওঠে গল্প আর আনন্দের সময়। এই সময় মোবাইল বা টিভি দূরে রাখাই ভালো। স্ক্রিন ছাড়া খাবার খাওয়ার অভ্যাস শিশুর মনোযোগ বাড়ায় এবং সে কী খাচ্ছে তা বুঝতে শেখে।

স্বাস্থ্যকর বিকল্প খাবার দিন

শিশু জাঙ্ক ফুড চাইবেই ,এটা স্বাভাবিক। পুরোপুরি নিষেধ না করে ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর পপকর্ন, ফলের চাট, দই-চিড়া, ঘরোয়া কেক বা স্মুদি দিতে পারেন ।এতে বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমবে।

রান্নায় শিশুকে যুক্ত করুন

শিশুকে রান্নার কাজে ছোট ছোট দায়িত্ব দিলে খাবারের প্রতি তার আগ্রহ বাড়ে। সবজি ধোয়া, ফল বাছাই করা কিংবা প্লেট সাজানো এমন কাজ শিশুর মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করে। নিজের হাতে তৈরি খাবার সে আনন্দের সঙ্গেই খায়।

ধৈর্যই সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি

একদিনে শিশুর খাদ্যাভ্যাস বদলে যাবে ,এমন আশা করা ঠিক নয়। ধৈর্য ধরে, ভালোবাসা দিয়ে, উদাহরণ তৈরি করে এগোতে হবে। শিশুর জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার যেন শাস্তি না হয়ে আনন্দের অংশ হয় সেদিকেই নজর দেওয়া জরুরি।

শিশুর আজকের খাদ্যাভ্যাসই গড়ে দেবে তার আগামীর স্বাস্থ্য। তাই সময় থাকতে স্বাস্থ্যকর খাবারে অভ্যস্ত করা মানে কেবল একটি ভালো অভ্যাস নয়, বরং একটি সুস্থ ভবিষ্যতের বীজ বপন করা।

সম্পর্কিত খবর :