জীবন বদলে দেবে যেসব অভ্যাস
আপনার অভ্যাসকেই নজর দিন, কারণ এগুলোই আপনার ভাগ্য তৈরি করে //লাও জু
জীবন পরিবর্তন করার জন্য সবসময় বড় কোনো সিদ্ধান্ত, অসাধারণ প্রতিভা বা অপ্রত্যাশিত সুযোগের প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় ছোট, সরল এবং দৈনন্দিন অভ্যাসই একজন মানুষের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।তাই জীবনের উন্নতি চাইলে প্রথমেই পরিবর্তন আনতে হবে অভ্যাসে।
দিনের শুরুটা সচেতনভাবে করা
অনেকেই ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল স্ক্রল করা শুরু করেন। এতে মস্তিষ্ক বিশ্রাম থেকে বিশৃঙ্খলায় ঢুকে যায়।বরং দিনের শুরুতে এক গ্লাস পানি পান করে ৫ মিনিট গভীর শ্বাস নিন । আজকের দিনটিতে কী করতে চান তার একটি ছোট পরিকল্পনা করুন৷এই ছোট অভ্যাসগুলো আপনার সারাদিনকে শান্ত করে তুলবে। কাজের প্রতি মনোযোগী ও প্রোডাকটিভ করবে।
৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস
জিমে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, শুধু হাঁটাই যথেষ্ট আপনার জন্য । এজন্য প্রতিদিন নিয়ম করে ৩০ মিনিট হাঁটুন ।এতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, মন ভালো করে, স্ট্রেস কমায় এবং ঘুম ভালো করে৷ তাছাড়া ওজনও নিয়ন্ত্রণে রাখে।মন খারাপ হলে বা মাথা ভার লাগলে ১০ মিনিট হাঁটলেও পরিবর্তন অনুভব করবেন।
প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট পড়ার অভ্যাস
পড়ার অভ্যাস মনকে ধারালো করে।হোক খবরের কাগজ, বই, প্রবন্ধ, গবেষণা কিংবা আপনার পছন্দের কোনো বিষয় । পড়লে জ্ঞান বাড়ে, মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত হয়, ভাষার দক্ষতা উন্নত হয়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ।এটি এমন একটি অভ্যাস যা জীবনের সব বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
নিজের লক্ষ্য ছোট ছোট অংশে ভাগ করা
“একদিন লিখব”, “একদিন শুরু করব” এমন ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসুন ।আপনার বড় লক্ষ্যকে ছোট ধাপে ভাগ করে নিন ।আজ ২০ মিনিট কাজ, আজ ১ পৃষ্ঠা লেখা, আজ ৩০ মিনিট অনুশীলন , এমন ছোট ধাপের অগ্রগতিই ধীরে ধীরে বড় সাফল্যে পরিণত হয়।
মাসে অন্তত একটি নতুন স্কিল শেখা
জীবনে এগোতে চাইলে আপনাকে শিখতে হবে ।ইংরেজি, টাইপিং, রান্না, ফটোগ্রাফি, ডিজিটাল মার্কেটিং, পাবলিক স্পিকিং অথবা গ্রাফিক ডিজাইন এর যে কোনো একটি দক্ষতা মাসে একটু একটু করে শিখুন। নতুন স্কিল আপনাকে সুযোগ এনে দেবে, আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
আর্থিক সচেতনতা
অল্প আয়ের মধ্যেও সঞ্চয়ের মানসিকতা রাখা জরুরি । আয়-এর ১০% আলাদা করে রাখুন, অপ্রয়োজনীয় খরচ নোট করুন।কোনো কিছু কিনতে চাইলেই ভাবুন, “আমার কি সত্যিই এটা প্রয়োজন ?”
আর্থিক শৃঙ্খলতা মানুষকে স্থির, নিরাপদ এবং ভবিষ্যত নির্ভরশীল করে তুলে ।
প্রতিদিন কিছু সময় একা থাকা
একা থাকা মানে নিঃসঙ্গতা নয়, নিজের সঙ্গে সময় কাটানো। এই একা থাকার সময়গুলোতে ভাবুন ,আমি কী চাই?আজ কী শিখলাম?কোথায় ভুল করলাম?কীভাবে আরও ভালো হতে পারি?এভাবে আত্ম-উন্নয়ন ঘটে। আর নিজেকে বোঝা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
মোবাইল ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা
মোবাইল আসক্তি শুধু সময় নষ্ট করে না, মনও নষ্ট করে।এজন্য ধীরে ধীরে কমিয়ে ফেলুন মোবাইলের নেশা ।
খাওয়া বা ঘুমানোর আগে ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন । প্রতিদিন ১–২ ঘণ্টা ফোন ফ্রি সময় কাটান। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইনস্টল করে দিন। এতে কাজে মনোযোগ বাড়ে, ঘুম উন্নত হয় এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাস
দিনে ১ মিনিট ভাবুন, আপনার সঙ্গে আজ কী ভালো ঘটেছে? আর এই ভালোগুলোই মনে করে জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন৷এটি মনকে শান্ত করে, নেতিবাচক চিন্তা কমিয়েইতিবাচক শক্তি বাড়িয়ে দেয় ।কৃতজ্ঞতা প্রকাশ জীবনের ছোট ছোট সুখকে বড় সুখে পরিণত করে।
না বলতে শেখা
সবাইকে খুশি করার চেষ্টা মানুষের জীবন নষ্ট করে দেয়।
যেখানে প্রয়োজন সেখানে শান্ত, ভদ্রভাবে “না” বলতে শিখুন।এতে নিজের সময় বাঁচবে, মানসিক শান্তি থাকবে, নিজের মূল্য বুঝতে পারবেন।এটি আত্মসম্মান রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস
স্বাস্থ্যই জীবনের সকল সুখের মূল। তাই জীবনে সুখী ও সুস্থ থাকতে হলে অতিরিক্ত তেল খাওয়া বাদ দিতে হবে, ঝাল কম খেতে হবে। সবজি–ফল বেশি খান।
সন্ধ্যার পর হালকা খাবার খান।হঠাৎ করে “ডায়েট” নয়,বরং শৃঙ্খলা মেনে খাবার খান ।
ঘুমকে গুরুত্ব দেওয়া
ঘুম কম হলে মন খারাপ, শরীর ক্লান্ত, মাথা ভার হয়ে সবকিছু গুলিয়ে যায়।তাই প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম জীবনের মান অনেকটাই উন্নত করে।
জীবন বদলে দেওয়া অভ্যাসগুলো কোনো অলৌকিক জিনিস নয়, এগুলো খুব সাধারণ, খুব বাস্তব। প্রতিদিন একটু করে আনা পরিবর্তনই একসময় বড় রূপ নেয়।আপনি আজ যে সিদ্ধান্ত নেন, আগামীকাল সেই সিদ্ধান্তই আপনাকে নতুন পথে চালিত করবে।তাই আজ থেকেই একটি ছোট অভ্যাস বেছে নিন আর দেখুন, কিভাবে আপনার জীবন প্রতিদিন একটু একটু করে বদলে যায়।