গৃহযুদ্ধের মধ্যেই মিয়ানমারে চলছে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন
গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমার। এরই মধ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর পরিচালনায় আজ রোববার চলছে দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোটগ্রহণ। মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো এই ভোটে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে জান্তার শাসন আনুষ্ঠানিক করার হাতিয়ার হিসেবে।
রয়টার্স জানিয়েছে, মিয়ানমারজুড়ে ১০০টি টাউনশিপে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার স্থানীয় সময় সকালে ভোটাররা কেন্দ্রগুলোতে হাজির হয়ে লাইন ধরে ভোট দিতে শুরু করেছেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথম পর্বের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ নির্বাচন। ওই পর্বে ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছিল বলে তখন জানিয়েছিল দেশটির সামরিক জান্তা। যা ২০২০ ও ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোটার উপস্থিতির তুলনায় অনেক কম।
চূড়ান্ত দফার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৫ জানুয়ারি। সব মিলে মিয়ানমারের ৩৩০টি প্রশাসনিক এলাকার মধ্যে ২৬৫টিতে ভোট হবে। সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির ৩৩০টি প্রশাসনিক অঞ্চলের (টাউনশিপ) মাধ্যমে ৫৬টিতে ভোট হবে না। এর পাশাপাশি আরও তিন হাজার গ্রাম ও ওয়ার্ড এলাকা নির্বাচনের বাইরে আছে।
২০২১ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তৎকালীন বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ওই সরকারের নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সুচিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে দেশজুড়ে শুরু হয় সংঘাত। যা ৫ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার দেশটির বিস্তীর্ণ অংশে ছড়িয়ে পড়েছে।
২০২০ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে অং সান সুচির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ভূমিধস জয় পেয়েছিল। চলতি নির্বাচনের জন্য নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয় দলটি। পরে এটিকে জান্তাবিরোধী আরও কয়েক ডজন দলের সঙ্গে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।