‘আমার ঢেঁকি মার্কায় একটি ভোট দিয়েন’
ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ। বাদ দেননি কোনো নির্বাচন। এবারো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক স্কুল শিক্ষক। ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যতিক্রমধর্মী প্রচারণার কৌশল নিয়েছেন তিনি। বাইসাইকেলে বাধা ঢেঁকি আর হ্যান্ডমাইক হাতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ভোটের ময়দান।
নিজের প্রতীক ঢেঁকি বেঁধে নিয়েছেন বাইসাইকেলে। দুই পায়ের প্যাডেলে এগিয়ে চলছে জরাজীর্ন সাইকেল। বাই-সাইকেলের হ্যান্ডেলে এক হাত, আরেক হাতে হ্যান্ডমাইক। ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভোট প্রার্থনা করছেন এমপি প্রার্থী আজিজার রহমান। পলাশবাড়ি ও সাদুল্লাপুর দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-৩ আসনের এই প্রার্থীর ব্যতিক্রমধর্মী এমন প্রচারণা ভোটারদের যেমন আকর্ষণ করেছে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনায় এসেছে।
তিনি এক হাতে হ্যান্ডেল ধরে বাইসাইকেল চালাতে চালাতেই আরেক হাত দিয়ে হ্যান্ডমাইকে কথা বলছেন। মাইকে বলছেন, ‘ও চাচি, ও খালা, ও আপা, ও দাদি, ও আন্টি, ও চাচা, ও অটোচালক ভাই, কৃষক ভাই, ও ভাতিজা, আমার ঢেঁকিমার্কায় একটি করে ভোট দিয়েন। নির্বাচিত হলে আমি বেকার সমস্যা সমাধান করব। সংসদে গিয়ে আপনাদের সমস্যার কথা বলব।’
কখনো রাস্তার মোড়ে মোড়ে, কখনো হাটবাজারে বক্তব্য দিচ্ছেন। তাকে দেখতে পেয়ে লোকজন জড়ো হচ্ছে। লোক জমায়েতে আজিজার রহমান বলছেন, ‘বাইসাইকেলে পেট্রল খরচ হয় না। তাই আমি একাই বাইসাইকেলে নিজের প্রচারণা চালাচ্ছি। আমার কোনো কর্মী বাহিনী নেই। যারা আমাকে ভালোবাসেন, তারাই আমাকে ভোট দেবেন। আমার নির্বাচনী খরচ নেই। তাই নির্বাচিত হলে টাকা তোলারও চাপ থাকবে না।’
ভোটের মাঠে এই প্রার্থীর মাইক বা পোস্টার লিফলেটের বালাই নেই। নেই কর্মী-সমর্থকের ঝাক। বাই-সাইকেলে কেন ভোটের প্রচারের সিদ্ধান্ত নিলেন-প্রশ্ন ছিলো এই প্রার্থীর কাছে।
এবারই প্রথম নয়, এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ২০১৯ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ২০২৪ সালে গাইবান্ধা-৩ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আজিজার রহমান। তবে কোনোবারই বিজয়ের দেখা মেলেনি। তারপরও হাল ছাড়েননি এই স্কুল শিক্ষক।
একটি বেসরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আজিজার রহমান- বিএসসি মাস্টার বলে পরিচিত সাধারণ মানুষের কাছে। জীবন জুড়ে খুব কাছ থেকে মানুষের দু:খ-দুর্দশার স্বাক্ষী হয়েছেন মানুষটি। পিছিয়ে পড়া এ জনপদের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজের মতো করে গাইবান্ধার পলাশবাড়ি ও সাদুল্লাপুর উপজেলাকে সাজানোর স্বপ্ন নিয়ে ভোটে অংশগ্রহণ করেছেন দাবি এই প্রার্থীর।
গাইবান্ধা-৩ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৬ হাজার ১৮৫ জন। সংসদীয় আসনটি দখলে নিতে ভোটের ময়দানে লড়াই করছেন বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, জনতার দল, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ ও স্বতন্ত্রসহ ১০ প্রার্থী।