নেত্রকোণার পাঁচ আসনে প্রার্থী বাছাই শেষ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নেত্রকোণার পাঁচটি সংসদীয় আসনে দাখিল করা মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এতে মোট ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান যাচাই-বাছাই শেষে এসব সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নেত্রকোণা-১ (কলমাকান্দা–দুর্গাপুর)
এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামালসহ চার প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যরা হলেন— সিপিবির প্রার্থী দুর্গাপুর উপজেলা সিপিবির সভাপতি মো. আলকাছ উদ্দিন মীর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ও জেলা কমিটির সাবেক সহসভাপতি আব্দুল মান্নান (সোহাগ)।
তবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর প্রার্থী মো. বেলাল হোসেন আয়ের উৎস ও অর্থ বিবরণী দাখিল না করায় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. লুৎফর রহমান ডিপ্টি প্রয়োজনীয় এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন ও দলীয় সমর্থন দেখাতে না পারায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
নেত্রকোণা-২ (সদর–বারহাট্টা)
এ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধতা পায়। তারা হলেন— বিএনপির জেলা সভাপতি মো. আনোয়ারুল হক, জামায়াতের সাবেক জেলা আমির মো. এনামুল হক, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. ফাহিম খান পাঠান, ইসলামী আন্দোলনের আবদুল কাইয়ুম, ইসলামী ঐক্য জোটের মো. শরিফ উদ্দিন তালুকদার এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবিএম রফিকুল হক তালুকদার।
খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী গাজী আব্দুর রহীমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়— তার সমর্থনকারী ভোটার ওই আসনের না হওয়া এবং ২০২৪–২৫ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা।
নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া–আটপাড়া)
এখানে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন— বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী, স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, জামায়াতের মো. খাইরুল কবির নিয়োগী, জাতীয় পার্টির মো. আবুল হোসেন তালুকদার, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. শামসুদ্দোহা এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. জাকির হোসেন।
নেত্রকোণা-৪ (মোহনগঞ্জ–মদন–খালিয়াজুরি)
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, তার স্ত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা জামান, জামায়াতের হেলাল তালুকদার, সিপিবির কেন্দ্রীয় সদস্য জলি তালুকদার এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. মুখলেছুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির প্রার্থী চম্পা রানী সরকারের মনোনয়ন মামলার তথ্য সংক্রান্ত ভুল উপস্থাপনার কারণে বাতিল করা হয়েছে।
নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা)
এই আসনে বিএনপির উপজেলা আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদার এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. নুরুল ইসলামের মনোনয়ন বৈধতা পায়। তবে জামায়াতের প্রার্থী মাসুম মোস্তফা মামলার রায়ের বিষয়ে ভুল তথ্য দেওয়ায় এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী ওয়াহিদুজ্জামান আজাদ ২০০৫ সালের একটি মামলার তথ্য গোপন করায় তাদের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।
আপিলের সুযোগ রয়েছে
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান জানান, নির্বাচন আইন অনুযায়ী মনোনয়নপত্রে কোনো ভুল, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকলে তা বাতিলযোগ্য। তবে যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে আপিল করার সুযোগ পাবেন।