নীলফামারীতে জামাতার প্রাইভেটকারের ধাক্কায় শ্বশুর নিহত
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় জামাতার প্রাইভেটকারের ধাক্কায় শ্বশুরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের দক্ষিণ দুরাকুটি ঘোপাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম এন্তাজুল হক (৬৫)। তিনি ওই গ্রামের আজগার আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের পাগলাটারি গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহেরের সঙ্গে এন্তাজুল হকের মেয়ের প্রায় দুই বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেলে তাহেরের স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
শুক্রবার দুপুরে স্ত্রীকে নিতে শ্বশুরবাড়িতে আসেন আবু তাহের। এ সময় শ্বশুর এন্তাজুল হক মেয়েকে নিয়ে যেতে বাধা দেন। একপর্যায়ে আবু তাহের জোরপূর্বক স্ত্রীকে প্রাইভেটকারে তুলে গাড়ি চালিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় এন্তাজুল হক প্রাইভেটকারের দরজা ধরে রাখলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে এন্তাজুল হক গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জামাতা আবু তাহেরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কিশোরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাইভেটকারের ধাক্কায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
স্থানীয়রা জানান, আবু তাহের কয়েকদিন আগে মাত্র প্রাইভেটকারটি কিনেছিলেন। ঘটনার পর নিহতের মরদেহ বাড়ির সামনে মসজিদে রাখা হয়।পারিবারিক বিরোধের জেরে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।