Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ার আসক্তি ও সরকারের নিয়ন্ত্রণ

সংগৃহীত

বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ার বিস্তার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, চাকরিচ্যুত শ্রমিক গ্রামের যুবকদের মধ্যে। মোবাইল ফোনে সহজ অ্যাক্সেস, আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ঘরে বসে দ্রুত আয়ের প্রলোভন অনলাইন জুয়াকে একটি সময়োপযোগীডিজিটাল নেশাতে পরিণত করেছে, যা তীব্র সামাজিক আর্থিক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।অনলাইন জুয়ার এই বর্ধিত প্রবণতা শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে ক্ষতি করছে না; বরং পরিবার সমাজের উপরেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে, যেমন ঋণগ্রস্ততা, মানসিক চাপ এবং পারিবারিক বিতর্কের বৃদ্ধি।

ঢাকায় বসবাসকারী ২৮ বছর বয়সী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রাশেদ (ছদ্মনাম) অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন।রাশেদ বলেন, “বন্ধুর কাছ থেকে প্রথম একটা অনলাইন বেটিং অ্যাপের কথা শুনি। শুরুতে ৫০০ টাকা দিয়ে খেলি, জিতে যাই। তখন মনে হলো এত সহজেই টাকা পাচ্ছি। এরপর ধীরে ধীরে আসক্ত হয়ে পড়ি

কয়েক মাসের মধ্যেই রাশেদ তার বেতনের বড় অংশ জুয়ায় হারান। একপর্যায়ে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থেকে ঋণ নিয়ে খেলতে থাকেন।

আমি প্রায় তিন লাখ টাকা হারিয়েছি। পরিবারকে কিছুই বলতে পারিনি। রাতে ঘুম হতো না, কাজে মন বসত না,”বলতে গিয়ে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে রাশেদের

বিভিন্ন মতামত সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, হাজার হাজার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ পাচার লেনদেনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। একটি সরকারি হিসেব অনুযায়ী প্রায় ,০০০-,১০০টি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ইতোমধ্যেই জুয়ার সাথে যুক্ত আছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

অনলাইন জুয়ার বিপুল পরিমাণ বিজ্ঞাপনও জনসাধারণের কাছে এটিকে স্বাভাবিক জীবনের অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। জনপ্রিয় ওয়েবসাইটগুলোতে জুয়ার বিজ্ঞাপনের কারণে রাজস্ব আয় হলেও সেটি কোনোভাবে নিয়ন্ত্রিত নয়, আর এসব বিজ্ঞাপন ব্যক্তিদের দ্রুত ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে বিপদে ফেলছে। এমনকি কিছু বিশিষ্ট গেমিং ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সাইটগুলিকে ব্লক করার উদ্যোগও হয়েছে, কারণ তারা এই ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে টাকে আরও সাধারণ করছে।

সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার জুয়াকে ডিজিটাল সমাজে-সম্মানজনক অনৈতিককার্যকলাপ হিসেবে প্রাধান্য দিয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

২০২৫ সালে দেশের সাইবার সিকিউরিটি আইন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মনীতির আওতায় অনলাইন জুয়ার প্রচারণা, অ্যাপ, ওয়েবসাইট বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোকে জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার থেকে বিরত থাকতে কঠোরভাবে বলা হচ্ছে, না হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সরকারি সংস্থা ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (এনসিএসএ), বাংলাদেশ টেলিকম নিয়ন্ত্রক কমিশন (বিটিআরসি), ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) যৌথভাবে মনিটরিং, ব্লকিং আইনি কার্যক্রম চালাচ্ছে। অনলাইন জুয়ার সাথে যুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানরা এখন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। শুধু আইনি নিষেধাজ্ঞা নয়, সচেতন প্রচারণা, পরিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে যাতে অনলাইন জুয়ার আসক্তির ঝুঁকি কমানো যায় এবং যুব সমাজকে ডিজিটাল বিপদ থেকে নিরাপদ রাখা যায়।

সম্পর্কিত খবর :