কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিকাশ বিশ্বব্যাপী দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং এটি বাংলাদেশের জন্যও এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। যদিও এআই-এর উন্নয়ন মানবজাতির জন্য সোনালি যুগ নিয়ে আসতে পারে, তবে এর পাশাপাশি অনেক অস্তিত্বগত ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের মতো চিন্তা করতে পারবে এমন সম্ভাবনার কারণে, এটি সমাজের প্রতিটি খাতকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে—যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং প্রশাসন।
বিশ্বের শীর্ষএআইগবেষকরা যেমন স্যাম অল্টম্যান,
ইলন মাস্ক এবং ডেমিস হাসাবিস
মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি আগামী কয়েক বছরে মানুষের
চেয়ে স্মার্ট হবে। এর ফলে
অনেক সেক্টরে স্বয়ংক্রিয়তা, দক্ষতা এবং কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি
পাবে, যা বাংলাদেশের মতো
উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি বড়
সুযোগ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ,
স্বাস্থ্যসেবায়এআই-এর মাধ্যমে দ্রুত
রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার উন্নতি
করা সম্ভব হবে। কৃষিক্ষেত্রেএআইপ্রযুক্তি
কৃষকদের সাহায্য করতে পারে, যেমন
ফসলের বৃদ্ধি, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনায়।
তবেএআই-এর এই সম্ভাবনার
পাশাপাশি একাধিক ঝুঁকি রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে
চলে যায়, তবে এর
খারাপ প্রভাব অনেক বড় হতে
পারে। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড়
ঝুঁকি হলো সামাজিক ও
অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি হওয়া।এআইযদি সঠিকভাবে ব্যবহৃত
না হয়, তাহলে এতে
কর্মসংস্থানের সংকট সৃষ্টি হতে
পারে। উদাহরণস্বরূপ, স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে শিল্প ও সেবাখাতের অনেক
কাজ মানুষের হাত থেকে চলে
যেতে পারে, যা ব্যাপক বেকারত্বের
সৃষ্টি করবে।
এছাড়া, যদিএআই-এর নিরাপত্তা এবং
নৈতিক ব্যবস্থাপনা পর্যাপ্ত না থাকে, তবে
এর অপব্যবহার হতে পারে। যেমন, এআই-র মাধ্যমে গোপনীয় তথ্য চুরি, রাজনৈতিক
উদ্দেশ্যে প্রোপাগান্ডা চালানো, অথবা বড় ধরনের
সাইবার হামলা ঘটানো। বাংলাদেশে যেখানে সাইবার নিরাপত্তা এখনো অনেকটা পিছিয়ে
রয়েছে, সেখানে এসব ঝুঁকি আরও
প্রকট হতে পারে।
এদিকে, AI-এর উন্নয়ন এবং
ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি
বাংলাদেশের সরকারএআই-এর সঠিক ব্যবহারের
জন্য প্রয়োজনীয় আইন এবং নীতিমালা
তৈরি করে এবং সেই
অনুযায়ী কাজ করে, তবে
এর সুফল পাওয়া সম্ভব।
উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক
সহযোগিতা এবং গবেষণার মাধ্যমেএআইকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং নিরাপদ
ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।
AI যদি বাংলাদেশে সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে এটি
দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার
মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে, এজন্য প্রয়োজন
শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি,
যাতে প্রযুক্তির ভয়াবহতা এবং সম্ভাবনার মধ্যে
সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা যায়।