Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

দ্বীনদার মানুষকে দায়িত্বে বসালে নেকির ভাগ ভোটাররাও পাবেন: গোলাম পরওয়ার

খুলনার ডুমুরিয়ার মাগুরখালী ওয়ার্ড প্রতিনিধি সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার | ছবি: স্টার নিউজ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘ভোট একটি আমানত এবং এই আমানতকে উপযুক্ত ও সৎ ব্যক্তির হাতেই দিতে হবে। খেয়ানতকারীর হাতে ভোটের আমানত তুলে দিলে সেই খেয়ানতের দায় ভোটারদের ওপরও বর্তায়।’

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) খুলনার ডুমুরিয়ার মাগুরখালী ওয়ার্ড প্রতিনিধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘ভোট মানেই শক্তি। একজন রিকশাচালকের ভোটের মূল্য যেমন, ঠিক তেমনি রাষ্ট্রপতির ভোটের মূল্যও সমান। একটি ভোটেই কেউ জেতে, একটি ভোটেই কেউ হারে। তাই এই শক্তি যদি বেনামাজি, অসৎ, চাঁদাবাজ, মাস্তান কিংবা নেশাখোরের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তাহলে সেই শক্তি ব্যবহার করে তারা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, চাল-গম ও ত্রাণের টাকা লুটপাট এবং জনগণের ওপর জুলুম চালাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমার দেওয়া ভোটের কারণে যদি কেউ এই ক্ষমতা পেয়ে চুরি, দুর্নীতি ও অন্যায়ের সঙ্গে জড়ায়, তাহলে সেই গুনাহের অংশীদার আমিও। বিপরীতে, আল্লাহভীরু, দ্বীনদার ও সৎ মানুষকে ভোট দিয়ে দায়িত্বে বসালে তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন, আর সেই নেকির ভাগ ভোটাররাও পাবেন।’

সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জাতীয় সংসদ হচ্ছে দেশের আইনসভা। ৩০০ জন সংসদ সদস্য যে আইন তৈরি করবেন, সেই আইন দিয়েই দেশ চলবে এবং তারাই প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার নেতৃত্ব নির্ধারণ করবেন। যদি ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫০টির বেশি আসনে সৎ, নামাজি ও আল্লাহভীরু মানুষ পাঠানো যায়, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ন্যায়ভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।’

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এবার জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলামসহ ছয়টি ইসলামী দল এবং আরও ছয়টি দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল—মোট ১২টি দল একযোগে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, তাদের কেউই বুক চিতিয়ে বলতে পারেনি যে তারা চুরি, দুর্নীতি ও জুলুমমুক্ত শাসন দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এতদিন আলেম-ওলামাদের শুধু মসজিদ, মাদ্রাসা, জানাজা ও ইমামতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি— যারা মসজিদের ইমাম হবে, তারাই রাষ্ট্রেরও ইমাম হবে; যারা জানাজার ইমাম হবে, তারাই পার্লামেন্টেরও ইমাম হবে।’

সকাল ৮টায় মাগুরখালী ওয়ার্ড প্রতিনিধি সমাবেশ ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা সুবহানের সভাপতিত্বে এবং হিন্দু কমিটির ইউনিয়ন সভাপতি গৌতম মণ্ডলের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বক্তব্য দেন জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমীর গাজী সাইফুল্লাহ ও মাওলানা হাবিবুর রহমান, সেক্রেটারি আব্দুর রশীদ বিশ্বাস, উপজেলা হিন্দু কমিটির সেক্রেটারি অধ্যক্ষ দেব প্রসাদ মণ্ডল, সুজিত মণ্ডল, বিকানন্দ বৈরাগী, সনাতন সানা, উজ্জ্বল সাধু, দেবাশীষ বিশ্বাস, বিজয় সরকার, নিমাই চাঁদ রায়, অনিল সানা, প্রীতিশ মণ্ডল, বিষ্ণুপদ মণ্ডল প্রমুখ।

সম্পর্কিত খবর :