সন্ধ্যায় আসছে হাদির মরদেহ, বিমানবন্দরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
সিঙ্গাপুর থেকে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসার কথা রয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির মরদেহ। এ কারণে পুরো বিমানবন্দর জুড়েই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের বাইরে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন থাকবে বলে জানা গেছে।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
এদিকে জানা গেছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে হাদির লাশবাহী ফ্লাইটটি সিঙ্গাপুর ছাড়বে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে অবতরণের কথা রয়েছে।
এ নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছে। এতে লেখা হয়েছে, শহিদ ওসমান হাদীকে বহনকারী বিমানটি সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।
আমাদের জুলাই জজবার প্রাণ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অকুতোভয় বীরকে গ্রহণ করতে আমরা সবাই এয়ারপোর্ট থেকে শাহবাগগামী রাস্তার দুইপাশে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান গ্রহণ করবো।
সেখান থেকে শহিদ ওসমান হাদীকে সর্বসাধারণের সাক্ষাতের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে আনা হবে।
এর আগে অন্য একটি পোস্টে লেখা হয়, ‘হারাম খাইয়া আমি এত মোটাতাজা হই নাই, যাতে আমার স্পেশাল কফিন লাগবে! খুবই সাধারণ একটা কফিনে হালাল রক্তের হাসিমুখে আমি আমার আল্লাহর কাছে হাজির হবো।’
লাশবন্দি কফিনের ছবি দিয়ে দুপুরে ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ পোস্ট করা হয়।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে এভসেকের পাশাপাশি বিমান বাহিনীর কুইক রেসপঞ্জ ফোর্স মোতায়েন থাকবে। বাইরে থাকবে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তা ব্যারিকেডের ভেতরে কাউকে আসতে দেওয়া হবে না। কেউ আসার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।’ নিরাপত্তা ব্যাঘাত হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড না করারও অনুরোধ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে নির্বাচনি প্রচারণা শেষে ফেরার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন ঢাকা-৮ আসনের স্বত্রন্ত্র প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালে (এসজিএইচ) নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার মারা যান তিনি।