বিএনপিকে নেকাব ইস্যুতে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে: আপ বাংলাদেশ
হিজাব-নেকাব নিয়ে বিদ্বেষ সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে ‘আপ বাংলাদেশ’-এর মুখপাত্র শাহরিন ইরা বলেছেন, ‘মোশাররফ হোসেন ঠাকুরের বক্তব্য শুধু তার ব্যক্তিগত বংশ পরিচয় নয়, এটি তার দলের অবস্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিএনপিকে দ্রুত এ বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে, নতুবা এই বক্তব্যকেই দলীয় অবস্থান হিসেবে গণ্য করা হবে।’
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।
নেকাবি নারীদের ‘ইহুদি বেশ্যা নারীদের’ সঙ্গে তুলনা করে মোশাররফ হোসেন ঠাকুরের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে ‘আপ বাংলাদেশ’।
শাহরিন ইরা বলেন, ‘আওয়ামী রেজিমে যে ইসলামবিদ্বেষ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালানো হয়েছিল, তা এখনও বিভিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র ও রাজনীতির মাঠ পর্যন্ত হিজাব-নেকাবের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়, কর্পোরেট অফিস, রাস্তাঘাট কিংবা রাজনৈতিক অঙ্গন—যেখানেই হিজাব ও নেকাব নিয়ে বিদ্বেষমূলক আচরণ করা হবে, সেখানে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’
আপ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য দিলারা খানম বলেন, মোশাররফ হোসেন ঠাকুর ইসলামের শরীয়াহ বিধান “নেকাব” নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। এটি শুধু নারীদের অপমান নয়, সরাসরি ইসলামের অবমাননা। এই বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তিনি।
যুব উইংয়ের সহসমন্বয়কারী ইসরাত জাহান ইশা বলেন, নেকাব ইসলামের একটি শাশ্বত বিধান এবং শালীনতার প্রতীক। নেকাবকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা ইসলামবিদ্বেষী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। এই ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা নেকাবি নারীদের অবমাননার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বিচার ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল অবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আপ বাংলাদেশে প্রধান সংগঠক নাঈম আহমাদ,নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সদস্য সচিব নাহিদা আক্তার ঊর্মি, ওমেন উইং সদস্যরাসহ আরও অনেকে।