Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

অপে ক্ষা

  • Days
  • Hours
  • Min
  • Sec

এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও পি কে হালদারসহ ১৩ জনের বিচার শুরু

ছবি : সংগৃহীত
জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩২ কোটি ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এর দায়ের করা মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লি.) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকা ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালত এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেন আদালত।

বিচার শুরু হওয়ার অপর আসামিরা হলেন- এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস। এছাড়া রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লি.-এর (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লি.) সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল ও সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না এবং মারিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক, মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাদের মধ্যে নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক কারাগারে আছেন। বাকীরা পলাতক রয়েছে।

চার্জগঠনের সময় আসামি নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচারের প্রার্থনা করেন।

দুদকের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শুনানিকালে দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। তবে অন্যান্য আসামিরা পলাতক ছিলেন। দুই আসামির পক্ষে এই মামলায় অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন তাদের আইনজীবীরা। শুনানি শেষে আদালত তাদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জগঠনের আদেশ দেন। অন্যান্য আসামিরা পলাতক থাকায় তারা চার্জগঠন শুনানিতে অংশ গ্রহণ করতে পারেননি।

এদিকে, আসামি নাহিদা রুনাইয়ের পক্ষে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন ঢাকা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ মিয়া আলম। আরেক আসামি রাশেদুল হকের পক্ষের আইনজীবী মো. নিয়াজ মোর্শেদ অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন।

আসামি নাহিদা রুনাইর পক্ষের আইনজীবী খোরশেদ মিয়া আলম শুনানিতে বলেন, নাহিদা রুনাই এই ঋণের ব্যপারে যোগসাজশেও নেই। এজাহারে, চার্জশিট, এফআইআরের কোথাও নেই। যদি থাকতো তাহলে এভাবে বলতাম না। ঋণের ব্যপারটি হয়েছে দুইটা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে। এখানে এই ভদ্র মহিলা ঋণের ফাইল নাড়াচাড়া করা বা আসার সুযোগ নেই। ন্যায় বিচার চাই। চার্জশিট যিনি দিয়েছেন সঠিক ভাবে যাচাই-বাছাই করেননি। নাহিদা রুনাই এখানে ডিরেক্টর না শেয়ার হোল্ডারও না। সে ম্যানেজার হিসেবে ছোটো চাকরি করে। সুতরাং ন্যায় বিচারের স্বার্থে সে অব্যাহতি পাওয়ার হকদার

রাশেদুল হকের আইনজীবী নিয়াজ মোর্শেদ শুনানিতে বলেন, এই বিভাগে উনি (রাশেদুল হক) একমাত্র সদস্য নন। আরি সদস্য আছেন। তিনি এখানে শেয়ার হোল্ডার নন। বেতনের বাহিরে কোনো লাভ পেয়েছেন তা-ও লেখা নেই। বেতনের বাহিরে কোনো বেনিফিট যেহেতু তিনি নেয়নি। সুতরাং তার অব্যাহতি চাই।

এর আগে, গত ১১ জানুয়ারি মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। ওইদিন বিচারের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ-৯ নম্বর আদালতে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, মামলায় আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট মেসার্স মোস্তফা এন্ড কোং নামক নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি মেয়াদি ঋণ অনুমোদন ও ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবরে বিতরণের অভিযোগ আনা হয়। এই টাকা এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয়। এ মামলায় ১৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ওই ঘটনায় গত বছরের ২ জুলাই সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান মামলাটি দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত করে একই বছরের ১৬ অক্টোবর দৈনিক ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সেল দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

সম্পর্কিত খবর :