Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

অপে ক্ষা

  • Days
  • Hours
  • Min
  • Sec

কেরাণীগঞ্জে জোড়া খুন

শিক্ষিকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিহত মা-মেয়ে | ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার কেরানীগঞ্জে শিক্ষিকার ফ্ল্যাট থেকে নিখোঁজ ছাত্রী ও তার মায়ের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শিক্ষিকা মিম আক্তার আদালতে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া নুরজাহান নামে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ঢাকা জেলা পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক সুমাইয়া আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি হওয়ায় তা রেকর্ডের আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মিম আক্তারের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিশু হওয়ায় নুরজাহানের জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আগামীকাল রোববার (১৮ জানুয়ারি) দিন ধার্য করে গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাদীর মেয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শিক্ষিকা নুসরাত মিমের বাসায় নিয়মিত পড়াশোনা করে। শিক্ষিকার বাসা তার বাসা থেকে ৫০০ গজ দূরে। ঘটনার দিন ২৫ ডিসেম্বর বিকাল ৫টার দিকে বাদীর মেয়ে শিক্ষিকার বাসায় পড়তে যায়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে শিক্ষিকা তার স্ত্রীকে ফোন করে মেয়েকে নিয়ে যেতে বলে। মেয়েকে আনতে বাদীর স্ত্রী বাসা থেকে বের হয়। আসামিরা সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ফোন করে জানায়, তার স্ত্রীর যাওয়ার প্রয়োজন নেই, মেয়ে বাসার উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেছে। আসামিদের বারবার জিজ্ঞাসা করেও তার স্ত্রীর কোনো সন্ধান পাননি। পরে আত্নীয়সহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে না পেয়ে দুদিন পর থানায় জিডি করেন। এ ঘটনায় রোকেয়া রহমানের স্বামী শাহিন আহমেদ গত ২৫ ডিসেম্বর মডেল থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন। পরে তিনি একই থানায় ৬ জানুয়ারি বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ বলছে, গৃহ শিক্ষিকা মিম আক্তার ও নিহতরা পূর্বে গোপফার এলাকায় একই বাড়িতে পাশাপাশি ফ্লাটে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সে সময় তাদের মধ্যে বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে নিহত রোকেয়া রহমানকে জামিনদার করে গৃহশিক্ষিকা মিম আক্তার একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। পরে গৃহ শিক্ষিকা এই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে বিলম্ব হওয়ায় এনজিও কর্মকর্তারা রোকেয়া রহমানকে চাপ সৃষ্টি করে। এই ঋণের টাকা নিয়ে ঋণগ্রহীতা গৃহ শিক্ষিকা মিম আক্তার ও তার বোন নুসরাত নুরজাহানের সাথে রোকেয়া রহমানের প্রায় ঝগড়া হতো। গত দুই মাস পূর্বে গৃহশিক্ষিকা মীম আক্তার বাসা ছেড়ে দিয়ে মুক্তিরবাগ ডায়াবেটিস বাজার এলাকায় শামীমের বাসায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সেখানে চলে যান।

গত ২৫ ডিসেম্বর নিহত ছাত্রী জোবাইদা রহমান ফাতেমা গৃহ শিক্ষিকা মিমের বাসায় প্রাইভেট পড়তে আসে। এ সময় পূর্বের ঝগড়ার সূত্র ধরে গৃহ শিক্ষিকা মিম আক্তার ও তার ছোট বোন নুসরাত নুরজাহান মিলে ছাত্রী জুবাইদা রহমান ফাতেমাকে গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। পরে লাশটি গুম করার জন্য তাদের ফ্ল্যাটের ফলস ছাদের উপর লুকিয়ে রাখে।

সম্পর্কিত খবর :