পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ইসির
সীমানা জটিলতায় আদালতের আদেশে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন ‘আপাতত’ স্থগিত রাখছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসনের সীমানাসংক্রান্ত জটিলতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ইসি জানিয়েছে। উচ্চ আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘ওই দুই আসনের নির্বাচন পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে, তা বলা যাবে না। আমরা আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সুপ্রিমকোর্টের পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত এ দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে গেজেট প্রকাশ করে। সেখানে সাঁথিয়া উপজেলার পুরোটা নিয়ে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলা মিলিয়ে পাবনা-২ আসনের সীমানা চূড়ান্ত করা হয়।
এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেড়া উপজেলার জহিরুল ইসলাম এবং সাঁথিয়া উপজেলার আবু সাঈদ হাই কোর্টে রিট মামলা করেন।
প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করে। সেই রুল শুনানি শেষে গত ১৮ ডিসেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট।
পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা সংক্রান্ত গেজেটের অংশটুকু ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হয় ওই রায়ে।
সেই সঙ্গে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন দুটি আগের মতো পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে নির্দেশ দেয়া হয়।
এরপর নির্বাচন কমিশন পাবনার আসন দুটি নিয়ে ২৪ ডিসেম্বর সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে আগের মতই পুরো সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া পৌরসভা ও বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেংগা, চাকলা ও কৈটোলা ইউনিয়ন নিয়ে পাবনা-১ আসন দেখানো হয়। আর বেড়া উপজেলার বাকি পাঁচটি ইউনিয়ন এবং পুরো সুজানগর উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসনের সীমানা দেখানো হয়।
হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং নির্বাচন কমিশন আলাদা আবেদন করে। ৫ জানুয়ারি সেসব আবেদন শুনে নির্বাচন কমিশনের ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির অংশটুকু স্থগিত করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়, লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বাহল থাকবে।
এর ফলে পাবনার এ আসন দুটির ক্ষেত্রে ইসির ৪ সেপ্টেম্বরের গেজেট বহাল হয়ে যায়। অর্থাৎ সাঁথিয়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসনের সীমানা বহাল হয়।
সীমানা নিয়ে এই জটিলতার কারণে আদালতের পরবর্তী আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত পাবনা ১ ও ২ আসনে ভোটের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানাল নির্বাচন কমিশন।
তবে বাকি ২৯৮টি আসনে ভোটের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এখন প্রার্থীরা আপিল আবেদন করছেন, শনিবার থেকে আপিল নিষ্পত্তি শুরু করবে ইসি।
১২ ফেব্রুয়ারি ভোট সামনে রেখে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সব মিলিয়ে তিনশ আসনে আড়াই হাজারের বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এরপর ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বাছাইয়ে বাদ পড়েন ৭২৩ জন।