বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৪৫ আসামি কারাগারে
মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর প্রতিবাদে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিটিআরসির ভবনে হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪৫ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জেনিফার জেরিনের আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ৪৫ আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। পরে আদালত এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাগর তপাদার ৩৯ জন আসামির জামিন চেয়ে শুনানি করেন। এছাড়াও অপর ৬ আসামিদের পৃথক দুই আইনজীবী তাদের জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন- মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৮), সৈয়দ আহমেদ শুভ (২৬), মো. শাহজাহান (৩২), অপূর্ব ইসলাম (২২), শরিফুল ইসলাম নিলয় (১৯), মো. জাহিদ হাসান হৃদয় (২৫), মো. শাহেদ ভূইয়া (২০), বুলবুল আহমেদ (২৬), দীপক হাজরা (২৬), মো. মান্না হোসেন (২৫), ইয়াছিন আরাফাত অর্নব (২৫), মো. আশরাফ উদ্দিন (৩০), মো. শাহ জালাল (২৮), মো. শাহিন (২১), মো. নাইম (২১), সাইদুর রহমান (১৯), ইমতিয়াজ আহমেদ হৃদয় (২১), মো. রমজান (১৯), মো. সাব্বির হোসেন (২৪), মো. শাহিন (২৬), মো. তরিকুল ইসলাম রিফাত (১৯), মো. মঈন হোসেন রাজন (২২), মো. অনিক হোসেন (২৭), মো. তরিকুল ইসলাম (২৪), মো. রিফাত হোসেন (২৩), মো. হানিফ মিয়া (২৫), মো. শাহাদাৎ হোসেন রাব্বি (৩২), মো. সোহানুল হক (২৪), মো. তারেক আজিজ (২৮), মো. সাজ্জাদ ইসলাম (১৯), মো. শিপন (২৩), মো. এজাজ হোসেন সিয়াম (২৪), মো. উনায়েস ইমরান (২৪), মো. মনিব আক্তার (২৫), মো. হারিজ (২৮), মো. সাব্বির হোসেন বিজয় (২২), এস এম মতিউর রহমান (৪৮), মো. রাজন শেখ (৩১), মো. আবু সাদিক রাকিব (২৯), মো. মামুন ব্যাপারী (২৪), মো. মজিবুর রহমান (৩২), মো. সালাহ উদ্দিন ব্যাপারী (৪০), মো. আমিনুল ইসলাম নাঈম (২৫), মো. রাকিবুল হাসান রাকিব (২৩), ও মো. আব্দুল্লাহ সবুজ (৩১)।
শেরে বাংলা থানার উপ-পরিদর্শক মো. শামসুজ্জোহা সরকার তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার ৪৫ আসামিসহ পলাতক ৫০০ থেকে ৬০০ জন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিটিআরসি ভবন, স্টাফবাস ভাঙচুর করে। তারা ষড়যন্ত্রে সহায়তা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে রাষ্ট্রের এ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙচুর করে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইতোপূর্বে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে। তাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান আন্দোলনকারীদের নিয়ে একাধিকবার তাদের দাবিদাওয়ার বিষয়ে সমাধানের জন্য বৈঠক করেন। পরবর্তীতে এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তক্রমে গতকাল ১ জানুয়ারি (NEIR) সিস্টেম আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু করা হয়। NEIR সিস্টেম চালু হওয়ায় গ্রেপ্তার আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা ৫০০-৬০০ জন আন্দোলনকারী ক্ষুদ্ধ হয়ে বিটিআরসি ভবনে হামলা করে। হামলা ভাঙচুরের কারণে বিটিআরসি ভবনের আনুমানিক (দুই কোটি) টাকার ক্ষতি হয় বলে মামলায় উল্লেখ করেন বাদী। এছাড়াও বিটিআরসির ৫১ সিট বিশিষ্ট গাড়িতে হামলা করে আসামিরা। যার ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় বাদীর মামলার পরে,আসামিদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়,আসামিরা গতকাল ১ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন আগারগাঁও এলাকার বিটিআরসি ভবনের সামনে পাকা রাস্তার উপর জড়ো হয়ে বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দেয়। আন্দোলন অব্যাহত রেখে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার লক্ষ্যে জনগণের সম্পদ ধ্বংস, কমিশনের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সাধারণ জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করার লক্ষে বিটিআরসি ভবনের কাঁচের দেওয়াল, ভবনের সামনে রাস্তার উপর থাকা ৫১ সিট বিশিষ্ট বিটিআরসির এসি স্টাফবাসে হামলা করে। যা আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য,গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে চালু করা হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর)। এই পদ্ধতি চালুর প্রতিবাদে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মিলে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করে।