রাবিতে প্রক্সিকাণ্ডে ছাত্রত্ব বাতিল তিন শিক্ষার্থীর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রক্সি কাণ্ডের মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার দেড় বছর পর ৩ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়ে চারজনকে ভর্তি করিয়েছেন একই প্রক্সিদাতা। তাদের মধ্যে তিনজন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়ন করছেন। তবে একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও তিনি ভর্তি হননি।
ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সনি, আইন বিভাগের ফাহিম আল মামুন বর্ণ, ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শোভন।
এর আগে, প্রক্সি কাণ্ডের অভিযোগ উঠলে ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমানকে সভাপতি করা হয়। সদস্য করা হয় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসুদ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান ও সাবেক আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্যা। এছাড়া সদস্য সচিব হিসেবে ছিলেন উপ-রেজিস্ট্রার এ.এইচ.এম. আসলাম হোসেন।
অভিযুক্ত ফাহিম আল মামুন বর্ণ ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৮২.৬০ স্কোর করে ৪৬তম মেধাস্থান অর্জন করে ভর্তি হন আইন বিভাগে। তার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ২১১০২১৬১২৬ এবং রোল নাম্বার ৫৪১৩৭। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আছেন।
একই পন্থা অবলম্বন করে ‘সি’ ইউনিটে ৭৯ দশমিক ৭০ নম্বর পেয়ে ভর্তি হন মো. শোভন। বর্তমানে তিনি ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আছেন। তার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার
২১১০৯২৯১১২ এবং রোল নাম্বার ৭১১০৬।
‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মেহেদী হাসান সনি প্রক্সির মাধ্যমে ৭২ দশমিক ৬৫ নম্বর পেয়ে ১৬তম মেধাস্থান অর্জন করেন। তার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ২১১০৩৩৩১৭০ এবং পরীক্ষার রোল নাম্বার ৯৬১১৫। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত রয়েছেন।
অভিযোগ তদন্তের পর প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিন্ডিকেট সদস্য ও আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দীন বলেন, প্রক্সির মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় সিন্ডিকেটে তিনজন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করা হয়েছে।