Search

Search

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ‘বয়কট’ করতে পারে পাকিস্তান

সংগৃহীত
আসন্ন আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেবাংলাদেশ। তারা ভারতে নির্ধারিত ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ জানায়। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তা প্রত্যাখ্যান করে দেয়। ফলে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করেছে আইসিসি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল তাদের মূল উদ্বেগ।

এই পরিস্থিতির সূত্রপাত হয় গতডিসেম্বর থেকে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে হঠাৎ বাদ দেওয়া হয়। বিসিবি মনে করে, যদি একজন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ভারতে নিরাপদ না হন, তবে পুরো দল ও সাপোর্ট স্টাফের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

তবে আইসিসি এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। সংস্থাটি দাবি করে, বাংলাদেশ দলের বিরুদ্ধে কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য’ নিরাপত্তা হুমকি নেই। দুইপক্ষের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চললেও কোনো সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি। এই পদক্ষেপের পরই সংস্থাটির বিরুদ্ধে পক্ষপাত ও দ্বিচারিতার অভিযোগ জোরালো হয়।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম আইসিসির সিদ্ধান্তকে ‘ভণ্ডামি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, একই ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে ভারত এর আগে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি নিরপেক্ষ ভেন্যুর ব্যবস্থা করেছিল। ভারত–পাকিস্তান তিন বছরের চুক্তির আওতায় একে অপরের দেশে খেলতে না গিয়ে তৃতীয় দেশে ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ পাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ একই দাবি জানালে তা নাকচ করা হয়েছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন বিতর্কের মধ্যে সরাসরি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি বলেছেন, ‘এক দেশের জন্য এক নিয়ম আর অন্য দেশের জন্য ভিন্ন নিয়ম হতে পারে না। বাংলাদেশের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে।’

তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তান সরকার ও ক্রিকেট বোর্ড আলোচনা করছে এবং বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই জানানো হবে।

এই অবস্থায় পাকিস্তানের বিশ্বকাপে খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্ট বর্জনের ঘোষণা দেয়নি পিসিবি, তবে সমর্থনে প্রতীকী পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু ক্রিকেট নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতারও প্রতিফলন।

ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, আইসিসির সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্ষমতার ভারসাম্য ও প্রভাবশালী বোর্ডগুলোর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অনেকের মতে, ভারতের আর্থিক প্রভাব আইসিসির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বড় ভূমিকা রাখছে, যা ছোট বা কম প্রভাবশালী পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর প্রতি বৈষম্য তৈরি করছে।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা শুধু একটি ক্রীড়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং ক্রিকেট প্রশাসনে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও সমতার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

সম্পর্কিত খবর :