এলপিজি নৈরাজ্যে ভরসা এখন কাঠের চুলা
একদিকে সংকট, আর অন্যদিকে হাত বদলে দাম বাড়ছে এলপিজির। আর এতে পকেট কাটা যাচ্ছে মধ্য ও নিম্নআয়ের মানুষের। আমদানি থেকে সরবরাহ পর্যায়ে সরকার যথাযথ তদারকি না করলে এ সংকট ও নৈরাজ্যের স্থায়ী সমাধান হবে না বলে সতর্ক করছে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ-ক্যাব।
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের নবীনবাগ এলাকার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা মঞ্জুরা বেগম। ঘরে এলপিজি সিলিন্ডার থাকতেও রান্না করছেন মাটির চুলায়। কারণ, সিলিন্ডারের দাম যখন হাতের নাগালের বাইরে। এই পরিবারের ভরসা পাশেরই কোনো এক নির্মাণাধীন ভবন। যেখানে থেকে আনা হয় বিনামূল্যে কাঠের গুঁড়ি।
মঞ্জুরা বেগমের মতোই অবস্থা একই বাড়িতে বসবাস করা অন্তত আরও দশটি নিম্নবিত্ত পরিবারের।
খিলগাঁও, বনশ্রী, মেরাদিয়াসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত এক যুগে গড়ে ওঠা আবাসিক বাসিন্দাদের জ্বালানির ভরসা এলপি গ্যাস। কিন্তু, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া সংকট ও দামের নৈরাজ্য যেন এসব এলাকার মধ্য ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের বাড়তি খড়গ।
তবে, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ার দায় নিতে রাজি নয় খুচরা কিংবা পাইকারি কোনো পর্যায়ের ব্যবসায়ীরাই। ১২ কেজি ওজনের সাড়ে ১৩০০ টাকার সিলিন্ডার ২২০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ নবিনবাগের সেলিম এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে। কিন্তু গণমাধ্যমকর্মীর খবর পেয়ে দোকান তালা দিয়ে সটকে পড়েন মালিক।
তবে খোলা পাওয়া গেলো একই এলাকার খুচরা দোকান আলী এন্টারপ্রাইজ। যার কাছ থেকে আবার কিনতে এসেছেন অন্য আরেক খুচরা বিক্রেতা। যেখানে জানা গেলো হাত বদলেই বাড়ে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম।
ভোক্তা অধিকার নিয়ে আন্দোলন করা সংগঠন-ক্যাব বলছে, কীভাবে আমদানি হবে আর কীভাবে বিক্রি হবে, সরকার তার সঠিক পরিকল্পনা না নিলে বারবার এ নৈরাজ্যের খেসারত দিতে হবে ভোক্তাদেরই।
ক্যাবের সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, 'সাপ্লাই বাড়লে এই সমস্যা হত না। সরকারের যে মেকানিজম, সরকারের যে তদারকি আছে তা দৃশ্যমান নয়। এই সেক্টোরের যে লোকজন তারা কিন্তু জানে, এমন সমস্যা হতে পারে। তো সরকারের যদি প্রাক-প্রস্তুতি থাকত তাহলে এই সমস্যা হতো না'।
এলপিজির আমদানি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করলেও সমাধান করতে পারছে না বিইআরসি।