কারাফটকে মরদেহ দেখানো নিয়ে প্রশ্নে ‘মেজাজ হারালেন’ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
কৃষি নিয়ে ব্রিফিংয়ের সময় রাজনৈতিক প্রশ্ন করায় মেজাজ হারিয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকে উঠে গেলেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় তিনি জানান, কৃষি নিয়ে বিষয়বস্তু জানাতেই মূলত সাংবাদিকদের ডাকা হয়েছে। এখানে রাজনৈতিক প্রশ্ন করলে তার কোনো উত্তর দেওয়া হবে না।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে এমন পরিস্থিতির তৈরি হয়।
এর আগে কৃষি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ইউরিয়া সার সর্বোচ্চ পর্যায়ে মজুদ আছে বলে জানান তিনি। ধান ও সবজির সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে এবং বাজারে এর নায্যমূল্য নিশ্চিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্ত্রী ও ৯ মাসের শিশু সন্তানের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তির অনুমতি পাননি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) জুয়েল হাসান সাদ্দাম। এ কারণে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে দূর থেকে তাকে শেষবার স্ত্রী সন্তানের মুখ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পাশেই নিথর অবস্থায় পড়েছিল স্বর্ণালীর ৯ মাসের শিশু নাজিমের নিথর মরদেহ।
এদিকে প্যারোলে মুক্তি-সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রোববার (২৫ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
বন্দি সাদ্দামের ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) যখন মরদেহ দুটি ঘর থেকে উদ্ধার হয়; তখন আমরা সিদ্ধান্ত নেই সাদ্দামকে শেষ বারের মতো তার স্ত্রী ও সন্তানকে দেখানোর। এরপর আমাদের ব্যবসায়ী হেমায়েত উদ্দিন তার এক সহকর্মীকে নিয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। ছুটির দিন থাকায় ডিসি না থাকায় চলে যান ডিসি বাংলোতে। সেখানে ডিসিকে সব খুলে বলার পর সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তির আবেদনপত্রটি দেই। এরপর আবেদনপত্রটির এক কপি আমাদের দিয়ে দেয় বাংলোর এক কর্মচারী। সেখানে রিসিভ করার কোনো সাক্ষর ছিল না। সাক্ষর না থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে বাংলোর কর্মচারী জানান কোনো সমস্যা হবে না। বাংলো থেকে পরে জানানো হয়, প্যারোলে মুক্তি মেলেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে বাগেরহাটের ডিসি বলেছেন, তিনি (ডিসি) নাকি আমাদের বুঝিয়ে পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে যশোরের ডিসি ও কারা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে বলেছেন। তিনি (ডিসি) এই ধরনের কোনো কথাই বলেননি। তিনি এই পরামর্শ দিলে আমরা যশোরে যোগাযোগ করতাম। শেষে আমরা নিজেরাই জেলারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে কারাফটকে কয়েক মিনিটের জন্য শেষবারের মতো ভাইকে তার সন্তান ও স্ত্রীকে দেখতে দেওয়া হয়।’