নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় নিহত অন্তত ১৬০
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ সশস্ত্র হামলায় অন্তত ১৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের কোয়ারা অঙ্গরাজ্যের একটি গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। দেশজুড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ধারাবাহিক সহিংসতায় সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার কোয়ারা রাজ্যের কাইয়ামা এলাকার ওরো গ্রামে হামলার পর প্রথমে নিহতের সংখ্যা ৩৫ জনের মতো বলা হলেও বুধবার দুপুর নাগাদ মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৬২ জনে পৌঁছায়। ধ্বংসস্তূপ ও আশপাশের এলাকায় আরও মরদেহ পাওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কাইয়ামা অঞ্চলের রাজনীতিক সাইদু বাবা আহমেদ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, 'হামলাকারীরা গ্রামবাসীদের জড়ো করে হাত পেছনে বেঁধে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এ সময় তারা বাড়িঘর ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয়'। তিনি বলেন, 'এই মুহূর্তে আমি সেনা সদস্যদের সঙ্গে গ্রামেই আছি। মরদেহ শনাক্ত করা হচ্ছে এবং আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।'
আহমেদ জানান, অনেক মানুষ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাশের জঙ্গলে পালিয়ে গেছে। গ্রামটির ঐতিহ্যবাহী প্রধানসহ বেশ কয়েকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলাকারীরা জিহাদি গোষ্ঠীর সদস্য। তারা প্রায়ই গ্রামে এসে ধর্মীয় বক্তব্য দিত এবং গ্রামবাসীদের নাইজেরীয় রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করে শরিয়া আইন মানার দাবি জানাত। মঙ্গলবারের এক ধর্মীয় সমাবেশে গ্রামবাসীরা এর বিরোধিতা করলে হামলাকারীরা গুলি চালায়।
তবে সরকারি কর্মকর্তারা এখনও নিশ্চিত করেননি, হামলাটি জিহাদিরা চালিয়েছে নাকি ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত সশস্ত্র ডাকাত গোষ্ঠী। পুলিশ হামলার সত্যতা স্বীকার করলেও নিহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি।