‘পুষ্পা’ স্টাইলে ঝিরিপথ দিয়ে পাচার হচ্ছিল কাঠ, জব্দ করলো চবি প্রশাসন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পাহাড়ি ঝিরিপথ দিয়ে অভিনব কৌশলে বিপুল পরিমাণ কাঠ পাচার করার চেষ্টা করে একটি চক্র।বলিউড সিনেমা ‘পুষ্পা’-র কায়দায় গোপন পথে কাঠ সরানোর সময়অভিযান চালিয়ে পাচার হওয়া কাঠগুলো জব্দ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের সদস্যরা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন পাহাড়ি ঝিরি দিয়ে ভেসে আসে ৭৬টি গাছের গুঁড়ি। পরে সেগুলো রাত সাড়ে ৯টার ডিকে জব্দ করা হয়।
জানা গেছে, কাঠলোর বাজারমূল্য আনুমানিক ২ লাখ টাকার ওপরে। এর মধ্যে রয়েছে সেগুন ও গামারি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। শীতের শেষের দিকে নালায় পানি না থাকায় বাঁধ দিয়ে পানি জড়ো করা হয়। এরপর সেই পানি একসঙ্গে ছেড়ে হড়কা বান সৃষ্টি করে এসব গাছ পাচারের চেষ্টা করেছে একটি চক্র। এ যেন ভারতীয় মুভি ‘পুষ্পা’র গাছ পাচারের দৃশ্যকেও হার মানিয়েছে।
জানা গেছে, ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় গাছ ভেসে আসতে দেখে কয়েকজন শিক্ষার্থী। দেখতে পেয়ে ভিডিও করে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামক গ্রুপে পোস্ট করেন মো. মিঠু ইসলাম নামের একজন শিক্ষার্থী। খবর পেয়ে রাত ৯ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে গেলে ঝিরিতে পানি একেবারে কম দেখা যায়। পরবর্তীতে ঝিরিপথ ধরে কিছুক্ষণ সামনে গেলে ‘ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস’ সংলগ্ন এলাকায় বাঁশ বাগানের পেছনের ঝিরি থেকে কাঠগুলো জব্দ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, পাচারকারীরা ছড়ার উজানে কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে পানি জমিয়ে রেখেছিল। পরে সেই বাঁধ ছেড়ে দিয়ে পানির তীব্র স্রোত তৈরি করে কাঠের টুকরোগুলো ভাটির দিকে ভাসিয়ে দেয়। মূলত পরিবহন জটিলতা এড়াতে এবং লোকচক্ষুর আড়ালে কাঠ সরাতে এই কৌশল অবলম্বন করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিরাপত্তা দপ্তরের সুপারভাইজার শাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘ফেসবুকে ভিডিওটি দেখে আমরা তাৎক্ষণিক অভিযানে নামি। প্রায় ২ কিলোমিটার সামনে অগ্রসর হয়ে আমরা ৭৬টি কাঠের টুকরো উদ্ধার করি। যেগুলোর বাজারমূল্য আনুমানিক ২ লাখ টাকার ওপরে। প্রশাসনের নির্দেশে রাতে পাহারা জোরদার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘গাছের গুঁড়ির প্রকৃত মালিক এখনও পাওয়া যায়নি। গাছের গুড়িগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত আছে।’
তিনি বলেন, ‘গাছগুলো মূলত আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং এগুলো কাটার জন্য বন বিভাগের অনুমতি প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট মালিক এবং ক্লিয়ারেন্সের প্রমাণ না পাওয়া গেলে জব্দ করা গাছের গুড়িগুলো নিলাম কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে নিলামে তোলা হবে।’