হাওর পাড়ে হিংসার আগুনে পুড়লো জামায়াত কর্মীর খামার
শবে বরাতের রাতে নামাজ শেষে নিজের গবাধিপশুর খামারে ফিরছিলেন জামায়াত কর্মী ওসমান গণি। পথে তার আত্মীয় তাকে মুঠোফোনে জানায়, আগুনে জ্বলে যাচ্ছে তার খামার। দৌড়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন মুহূর্তেই সব ছাই হয়ে গেছে। এমন দৃশ্য দেখে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। আর কৃষক ওসমান গণির খামারে আগুনের ঘটনা স্বাভাবিক নয় বলে দাবি স্থানীয়দের।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কনকপুর ইউনিয়নের বুদ্ধিমন্তপুর এলাকায় হাওর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
ওসমান গণিসহ স্থানীয়দের দাবি, ছোট-বড় মিলিয়ে তার খামারে ৫০টি গরু, ৫০০ হাঁস ও ১০টি ভেড়া ছিল। ৭টি গরু পুড়ে মারা গেছে। আগুনে ঝলসে আহত অবস্থায় আশেপাশের বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরও ১০টি গরু। অন্য ৩৩টি গরু ও ভেড়ার খোঁজ মিলেনি এখনো। হাঁসগুলোও সব পুড়ে গেছে। ধ্বংস স্তূপের মাঝে তাদের কঙ্কালগুলো কেবল অবশিষ্ট আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা লিটন মিয়া বলেন, রাতে রাস্তা থেকে দেখতে পাই খামারে আগুন জ্বলছে। বাঁশ জ্বলে ঠাস ঠাস শব্দ করছে। পরে দৌড়ে গিয়ে দেখি ওসমান গণি অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। মানুষ আগুন নেভাচ্ছে।
আব্দুল লতিফ বলেন, ওসমান গণির খামারে ৫০টি গরু, ১০টি ভেড়া ও হাঁস ছিল। কয়েকটি মারা গেছে। আগুনে ঝলসে গেছে কয়েকটি গরু। এখনো কয়েকটি খুঁজে পাওয়া যায় নি।
সব হারিয়ে নিঃস্ব ওসমান গণি এখন খুঁজে ফিরছেন তার অন্য গবাধিপশুগুলো। স্থানীয় নারী-পুরুষ আসছেন দেখতে। তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন কেউ কেউ।
খামারি ওসমান গণি বলেন, আমার সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। নামায শেষ করে আসার আগেই আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি সন্দেহভাজনদের নাম পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে জানিয়েছি।
ওই এলাকায় ছোট-বড় আরো শতাধিক খামারি রয়েছেন। এসব খামারিদের মাঝেও এখন দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। তদন্ত করে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুর রহমান বলেন, এলাকায় অনেকের খামার রয়েছে। এরকম ঘটনার ফলে আমরা আতঙ্কিত। এমন অবলা প্রাণীর সাথে নিষ্ঠুরতায় জড়িতদের শাস্তি হওয়া দরকার।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন তিনি।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের বলেন, ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশ কাজ করছে। আমরা ভিকটিমকে পরামর্শ দিয়েছি অভিযোগ করতে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পারবো।